Skip to main content

Posts

মেঘনা: যে নদী এক ভাষার জন্ম দিছে

“I've known rivers: I've known rivers ancient as the world and older than the flow of human blood in human veins. My soul has grown deep like the rivers.” (Hughes, "The Negro Speaks of Rivers) একটা নদীমাতৃক দেশের উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষ হিসেবে ল্যাংস্টন হিউজের এই কবিতার সাথে আমি প্রায়ই নিজের একটা যোগসূত্র খুঁজে পাই। হিউজ তার জাতিগত পরিচয় বোঝাতে নদীর কথা টেনেছিলেন। ঠিক একইভাবে না হলেও, নিজের শেকড়ের কথা বলতে গেলে আমিও অনেকটা তার সুরেই বলতে পারি; কারণ আমার এলাকার সংস্কৃতি আসলে 'মেঘনা' নদীকে ঘিরেই আবর্তিত। এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স কোর্সে আমরা ‘ইকোসিস্টেম সার্ভিসেস’ বা প্রকৃতি থেকে পাওয়া সুযোগ-সুবিধা নিয়ে পড়ছিলাম। সেখানে যখন ‘সাংস্কৃতিক পরিষেবা’ (cultural services) অংশটা এল, তখন আমার সোশিওলিঙ্গুইস্টিকস কোর্সে শেখা একটা বিষয় মনে পড়ে গেল কীভাবে একটা নদী একটা জায়গার ভূগোল তো বটেই, এমনকি তার ভাষাকেও বদলে দিতে পারে। এই দুই কোর্সের শিক্ষা মিলিয়ে আমি একটা ব্যাপার বুঝতে পারলাম: কোনো জায়গার পরিবেশ বা ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্যের কারণে যখন কোনো ভাষা বা উপভাষা নতুন রূপ পায়, সেটা আসলে প্রকৃতির ...
Recent posts

একজন মডার্নিস্টের মাজার দেখা: “শরীফ উদ্দিনের গান : ওরা এবং ‘অরা’” হেমায়েত উল্লাহ ইমনের প্রবন্ধের পাঠপ্রতিক্রিয়া

প্রাককথন: মাজার ব্যাপারটাকে ইদানীং কালে  বাংলাদেশের প্রগ্রেসিভরা অনেকেই সেলিব্রেট করছেন সালাফিদের আগ্রাসনের এগেইন্সটে। আমার মডার্নিস্ট মন অবশ্য সালাফির জন্য যেমন মাজারের জন্যও তেমন। কারো প্রতিই এইখানে আগ্রহ নাই। কিন্তু এইখানে গুরুত্বপূর্ণ এই যে মাজার যখন ডমিন্যান্ট ছিলো তখন সে মানুষের উপর হামতাম করলেও, এখন সে ডমিন্যান্ট না; উলটো অন্যের ডোমিন্যান্সির স্বীকার। যেকারণে সেলিব্রেট না করলেও তার প্রতি আমার গ্রাজ নাই, বরং তার মানবাধিকার এর পক্ষেই অবস্থান নিবো। কিন্তু দেন এগেইন মাজারই আসল অন্যরা নকল এইসব বলে মাজারকে ওভারগ্লোরিফাই করার লাইনও আসলে আমার না। দিন শেষে দুইটাই প্রবলেমেটিক ইলেমেন্ট আমার রিডিং এ। মাজার তো কাল্টই, এই কাল্টের মহানতার তো কিছু নাই। দেশে আলাপ গুলো চিরকালই অস্তিত্ব রক্ষার নিরিখে হয় দুঃখজনক ভাবে। যেকারণে দেখা যায় পাড় নাস্তিকরা মাজারকে সহিহ ইসলাম বলে সেলিব্রিট করে সালাফিদের উৎপাতের বিপরীতে। যদিও মাজারের এখনকার ঢালাও নিরিহ রুপ তার ক্ষমতা হারানোর সাথে কানেক্টেড। ক্ষমতা থাকতে তার একাধিক রুপ ছিলো। কেউ ডোমিন্যান্ট কেউ এগ্রেসিভ। সেইখানেও আবার ওই সহিহ অসহিহ এর প্রসঙ্গ টানবেন সম্ভব...

গ্যাম্বলিং, গ্যাংস্টার আর আমেরিকান ড্রিমের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া: স্কোরসেজির 'গুডফেলাস'

স্করসেজির ভাষাতেই যদি শুরু করি, তাহলে বলতে হয়- যতদূর মনে করতে পারি, আমি সবসময়ই মার্টিন স্কোরসেজিরফ্যান ছিলাম। আমার কাছে তার একটা ফিল্ম দেখা মানে আমেরিকার প্রেসিডেন্টের ভাষণের চেয়েও বড় কিছু। কেন জানেন? কারণ রাষ্ট্রপতি যে গল্পটা বলেন না, স্কোরসেজি ঠিক সেই গল্পটাই বলেন। কোন গল্প? সেটা হলো 'আমেরিকান ড্রিম' বা সফল হওয়ার সেই রঙিন স্বপ্নটা কীভাবে মরে গেছে এবং খোদ আমেরিকা নিজেই একে কীভাবে খুন করেছে। স্কোরসেজি কেন এত দরকারি? কারণ তিনি কেবল একজন গুণী পরিচালক নন, বরং রাষ্ট্র যখন আমেরিকান ড্রিমের ব্যর্থতা নিয়ে চুপ থাকে, তখন তিনি সেই নীরবতা ভাঙেন। স্কোরসেজি কেবল একজন সেরাদের সেরা ফিল্মমেকারই নন, তাকে একজন 'লাশ কাটা ঘরের ডাক্তার' বা প্যাথলজিস্টও বলা যায়। যিনি সরকার আর পুঁজিবাদী ব্যবস্থার তৈরি করা 'জাতীয় রূপকথা'র ওপর খুব নিখুঁতভাবে ময়নাতদন্ত করছেন। আন্তোনিও গ্রামশি যেমন প্রিজন নোটবুকসে লিখেছিলেন, "পুরানো দুনিয়া মরছে, আর নতুন দুনিয়া জন্ম নিতে হিমশিম খাচ্ছে; এর মাঝে এখন হলো দানবদের সময়।" এই কথাটা আমেরিকার জন্য একদম সত্যি। কয়েক দশক ধরে রাষ্ট্র মানুষকে শিখিয়েছে যে কঠোর...

সমুদ্রগামী রাজহাঁস, এবং তুমি

স্বর্গের নির্বোধ হুরপরীদের চাই নি বলে, আমি এক স্বেচ্ছা নিমজ্জিত রাজহাঁস- ডুবে যাই সমুদ্র জলে। একটি দ্বীপে, একটি উজ্জ্বল জ্বলজ্বলে দ্বীপে- তোমার বুক স্বর্গে ঢুকে পড়বার আগে- আমি মানুষ নই, এক বিজন শালিক তোমার বুকের তিলে ডুবে গিয়ে স্বর্গবাসী হই। ভূমধ্যসাগর থেকে গ্রিক রমণীর শখের ফিশবোলে যাতায়াতের মাঝে- একটা রঙিন মাছ তুলে দেখি উজ্জ্বল আকাশ। তোমার বুকের তারায় পুড়ে আমি স্বর্গবাসী হই। তবু আমি এক স্বেচ্ছাচারী রাজহাঁস, ডুবে যাই তোমার সমুদ্র চোখে। স্বর্গের নির্বোধ হুরপরীদের, এখন হাঙর ধরার মৌসুম।

প্রাগৈতিহাসিক সাপ

চেচামেচি করে মদ এবং চুমুর মাঝে ইশ্বরকে ধরে রাখা মানুষদের ভিড়ে, আমি এক মহিমান্বিত পুরুষ পোড়ে ফেলি ওয়ার এন্ড পিস। যুদ্ধকে মনে হয় নারীর দুই স্তনের লড়াই, পুরুষের উদ্ধত জিভে জায়গা কেড়ে নিতে কি ভিষোণ পিপাসী, ভয়ংকর দানবের কাছে সপে দেয় কোচুরিপানার ফুল। আমি কবর থেকে তুলে নিয়েছি আমার আয়ু, কোচুরিপানা নয় আমার প্রিয় হাসনাহেনার তলায় বসে থাকা সাপ। আমি এক মহিমান্বিত পুরুষ, বিষদাঁতে চিনে নেই রক্তের কামড়। রাত দু’টার পর পুর্বপুরুষের কাম চিন্তার সঙ্গে আমার কোন তফাৎ নেই, তবুও আমি মহিমান্বিত একজন, কাম ছেড়ে ফিরে যাই কবিতার কাছে। পুরোনো প্রেমিকার ছবির দিকে তাকালে মনে হয়, কোচুরিপানা নয় আমার প্রিয় হাসনাহেনার তলায় বসে থাকা সাপ। রাত দু’টার পর পুর্বপুরুষের কাম চিন্তার সঙ্গে আমার কোন তফাৎ নেই, তবুও আমি মহিমান্বিত একজন, দাঁত ভেঙ্গে হেটে চলি গোরস্থানের রাস্তায়। ক্লান্তিতে থেমে যায় প্রাগৈতিহাসিক সাপ, গোল্ডলিপের প্যাকেট ছুড়ে আমি কেড়ে নেই ক্যাপাস্ট্যান। কবি আমি এবং মহত্বম একজন, বিষদাঁতে চিনে নেই রক্তের কামড়। ২৭ ডিসেম্বর, ২০১৯

অরাজনৈতিক জীবন

আমি একটা অরাজনৈতিক জীবন কাটাই এলাকার কুত্তা ঘেউ ঘেউ কইরা ডাকে আমি প্রচন্ড অরাজনৈতিক জীবন কাটাই এক দুপ্রে ফালগুনী পর্বার পর আমার আর কিছু করার নাই আমার আর কিছু করার নাই বইলা হাংরিদেরই পর্তে থাকি গুরুপাক সাহিত্য আমার প্যাটে সয় না আমি শুনেছি সেদিন নাকি তুমি তুমি তুমি মিলে তোমরা সদলবলে সভা করেছিলে সারে সা সারে সারে সা আমি একটা অরাজনৈতিক জীবন কাটাই টংগে ক্যাপাস্টেন নাই হাইটা কিরণের সাম্নে গিয়া বিড়ি ফুঁকি আকাশ ভ্রমনে গেলে ক্যাপাস্ট্যান পাবো না যখন আকাশ ভ্রমণে যাবো তখন কোবতে কর্তে পার্বো না বইলা আমি হাংরিদের পর্তে থাকি এলাকার কুত্তায় ডাকে ঘেউ ঘেউ ঘেউ ঘেউ আমার চৌকিদারের গায়ে দোতলা থেইকা পানি ঢাইলা দিতে মঞ্চায় কুত্তার আর শিয়ালের ল্যাঞ্জার পার্থক্য নিয়া কেউ কোবতে ল্যাখে নাই দোতলা থেইকা পানি ফালানো নিয়া আমার একটা কাহিনী আছে ছোট বেলার দিকে একবার এক লোকের মাথায় ঢাইলা দিছিলাম মগে কইরা বারান্দায় দাঁড়াইয়া সোজা নিচে এক লোক ছিলো রিকশায় সাইজা গুইজা যাইতেছিলো যেই লোক তার মাথায় ঢাইলা দিছিলাম কাট কাট কাট উপরের প্যারাটা কত ভাবে পড়া যায় গুরুপাক সাহিত্য আমার প্যাটে সয় না কিছু করার নাই বইল...

উলটানো পৃথিবীর ইঁদুর

যাপিত মৃত্যু ভেবে পেরিয়ে যাই ওরাংওটাং এর জীবন। চোখ বন্ধ করলেই হিসহিসিয়ে ওঠে বিষধর সাপ। জেব্রার সাদা ডোরায় দুর্গা প্রতিমা দেখে প্রতিমুহূর্তে এগুতে চাই, 'মা জয় মা' প্রলাপ করি, প্রলাপে ভাত জোটে না। দু'বেলা খেতে পারি ভেবে শান্ত হতে বলে দু'টো ইঁদুর। বড় হয়ে আমিও ভালো ইঁদুর হবো। এই শালার ভাগাড়ের জীবন, অথচ কতবার ভেবেছি- একবার ব্যাংকার হলেই ছুঁয়ে থাকবো তোমার চুল, সফেদ ওড়নায় ঢাকা পড়বে আমার হাত। সুদিন আসবে বলে জেব্রার গায়ে করেছি জোবেদা হিসাব। কিন্তু এখানে এখন উলটানো থালা, সব ব্যর্থ ইঁদুরদের বাসভুমি। এখন তোমার আঁচলে দুর্গামূর্তি দেখি না, চোখ বন্ধ করলেই হিসহিসিয়ে ওঠে বিষধর সাপ। পেটে প্রচন্ড খিদে, হাত দু'টো আজো বেকার। প্রলাপে ভাত জোটে না। ইঁদুর দু'টো আমায় ছেড়েছে তোমার আগেই। চৌদ্দই ডিসেম্বর দু'হাজার আঠারো   স্থানঃ ঢাকা থেকে ক্যাম্পাসগামী বাসের পেছনের সিট