Skip to main content

Posts

বানমনুসংগম

সব কিছু কেমন অর্থহীন মনে হয়। এই যে সমাজ ,  সংস্কৃতি ,  টেবিলের কোনে পড়ে থাকা মার্ক্সের ক্যাপিটাল- সব কিছু। চারদিক প্রচন্ড অবসন্ন ,  ফ্রাস্ট্রেশন ফ্রাস্ট্রেশন। বহুদূরগামী ঝিঝি পোকার ডাকে কতগুলো ফ্রাস্ট্রেডেড সময় পেরিয়ে যাচ্ছে। মদ ,  মেয়েছেলে ,  আরো কিছুটা এস্থেটিক সাহিত্য ,  অশ্লীল রাজনৈতিক লদকালদকি , কিংবা ভুরি ভুরি গাল গপ্পে- আমার বমি পায়। কী অর্থহীন! কী প্রচন্ড অর্থহীন! আমি দেখেছি এই সবই মিথ্যে ,  প্রচন্ড মিথ্যে। যৌনতার কথা শুনে নাক সিটকানো অদ্ভুত মানুষেরা , সন্ধ্যাবেলা চুপি চুপি বেশ্যাকে ডেকে নেয় ঘরে। মানুষকে দেখে আমি নাক সিটকাতে পারি না। ভদ্রতার মুখোশের ভেতর দলা পাকিয়ে যায় ,  পেট মুচড়ে ওঠে। ঘরে ফিরে গড়গড় করে বমি করি। আমি দেখছি ,  বুঝছি- এই সমস্ত কিছু অর্থহীন। অর্থহীন সমস্ত কিছু ,  নাগরিক চাষাবাদের অনুর্বর জমি। ভাসানী হলের শান দেওয়া পুকুর ঘাট কিংবা মানুষের হিপোক্রেসির মধ্যে ইদানীং তফাৎ খুঁজতে চাই না। কেননা আমি জেনেছি দু ' টোই দূর হতে ভালো। সব কিছু কেমন অর্থহীন মনে হয়। চারদিক প্রচন্ড অবসন্ন। ঘেন্...

রাত্রিবাস

এই পরিচিত রাত্রির কুয়াসায় পা ফেলে চলে যাচ্ছে দু'টি সাদাটে সৌখিন বাতি। শহুরে রাস্তার দিকে তাকিয়ে থাকি, দূরে একটা কান্নার আওয়াজ দূরবর্তী    রাস্তা থেকে আসছে আমার নিকটস্থ ঘরে। আমি তাদের দিকে তাকিয়ে থাকি। সুউচ্চ দালানের ভেতর প্রেমিকাদের উন্নত বুক দেখে, আমি বলে দিতে পারি ক'টায় ছেড়ে গ্যাছে ঢাকার লঞ্চ। রাস্তা দিয়ে হাঁটলে এখন ছাতিমের গন্ধ পাবো। আমার বড্ড অসুখ করে, বিশ্রি শব্দ করে কাশতে কাশতে ডালে মেখে ভাত খাই। সুউচ্চ দালানের ভেতর প্রেমিকাদের উন্নত বুক দেখে, আমি বলে দিতে পারি ক'টায় ছেড়ে গ্যাছে ঢাকার লঞ্চ। আমি এক মুহুর্তকামী লম্পট, নিমিষেই বুঝে ফেলি কিশোরীর গায়ে জ্বর। হেমন্তের ঘ্রাণে আমার আগ্রহ নেই , ফুরিয়ে গ্যাছে শরতের শীতকাল।

পোস্ট মর্ডানিজম জানি, তবু শেফালীকে চাই

তুলা গাছটায় পড়ে যাচ্ছে একটা আস্ত সিগারেট। আগুন লাগছে ডালে।  আহ জ্বলে যাচ্চে, জ্বলে যাচ্চে।  ওঃ শেফালী! জ্বলে যাচ্ছে, জ্বলে যাচ্ছে।  ড্রেনের ওপাড়ে ঢেঁড়ে ইঁদূর গুলোর মতো কুটকুটিয়ে জ্বলে যাচ্ছে।  যা শালা, ঘেউ ঘেউ করে ডেকে যাচ্ছে কুকুরগুলা।  তোমায় কাছে পেলে ভুলে যাই কুকুর ভীতি, বিড়ালে আমার এলার্জি।  প্রতি লোমকূপের নদীতে স্নান করি, তুলে আনি নিখুঁত আলো।  ওঃ শেফালী, তোমারে শুঁষে নিতে নিতে চায় লম্পট, উচ্চবংশী মহাপুরুষ৷  আমি অচ্ছুত ম্লেচ্ছের ব্যাটা, তোমার ফরাসি শরীরের ঘ্রাণ পেলে ভাবি- সব কিছু জ্বালিয়ে দিবো , সব-  কবিতা এবং আর যা কিছু!   ঝুলে যাওয়া বৃদ্ধার স্তনের মতো, সম্পাদকের আমাকেও চায় না। দীর্ঘদিন বেকার, একটাও চাকরি নেইই।  তোমারে শুঁষে নিতে চায় লম্পট, উচ্চবংশী মহাপুরুষ৷  শেফালী, আমি মরে যাচ্ছি শেফালী, আমার সমস্ত আত্মা ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে,  আমি জীবন থেকে মৃত্যুর মাঝে উড়ে চলে যাবো, মৃত্যু থেকে বুকের ওপরে উড়ে চলে যাবো। তোমার উর্বশী যোণীর বেদি ঢেকে রাখো, এখন চোখ মেললে উড়ে যাবে তিন হাজার শালিক পাখি।  ওঃ শেফালী! আমায় অন্ধ করে ...

নীল মাছেদের চোখে

চিত্রকরঃ এম সি এসচার একটা আঙুরক্ষেত ধরে হেটে যাচ্ছে পেশাই খানা। দুই তিনটা তরতাজা ফল খুঁজে নেয় বেছে বেছে। তোমাকে সে দ্যাখেনি কোন দিন৷ জেনেছে বাজারের দাম ,  কতোটা পাকলে রস হবে ভালো৷ নিখুঁত স্তনের মতো কষবে চাহিদার মাপজোখ। আইল ধরে হেটে যাচ্ছে সুদর্শন বিড়াল। মাঠ পেরিয়ে গৃহস্থ ঘরে মিলবে খাবার। এটো ভাত অথবা কিছুটা দুধ৷ সাদা ফিনফিনে মাছের কাঁটা। পথিক কি জানে ,  দুঃখ পেলে হয় এমন দারুণ মদ ? প্রচন্ড বিষণ্ণ গত শীতে স্থানঃ মেগু ভাইর চায়ের দোকান  

আত্মহত্যার রাতে

ছবিঃ শফিকুল সাজীব                   রাত চারটা ষোল মিনিট। আবারও মরবো ভাবছি। কবিতাদের চিবিয়ে খাচ্ছে হায়নার পাল। মলয় বলেছেন  ' কবিতার জন্য আত্মহত্যা ছাড়া স্বাভাবিকতা নেই ' তবুও প্রতিবার মরতে গিয়ে ফিরে আসছি নিষ্প্রাণ মখমলে। আমি দেখতে পাই আমার চেনা জানা পৃথিবীটা কেবল বদলেই যাচ্ছে। তোমার মতো এই শহরের বুকেও ক্রমশ চেপে বসছে অবিশ্বাস। তবুও বার বার আশ্চর্য চোখে দেখেছি তোমার নাকের তিল ; দূর থেকে দূরে সরে যায় বিকেলের পাখির মতো। আমি সম্ভবত মারা যাচ্ছি। বিরান ফসলের মাঠের মতো লাথি মেরে যাবো সাহিত্য ,  সভ্যতা ,  জীবনবোধ। প্রস্রাব শেষে শিশ্ন ঝাকানোর মতো ,  ঝাকিতে ফেলবো জীবনের সকল হিসাব নিকাশ। বুড়ো গাছটার মতো আমারও থাকবে না কোন লেনদেন ,  দেনা পাওনা। কেবল জানবো আমি মারা গেছি ,  আমি মারা গেছি ,  আমি মারা গেছি।

সামুদ্রিক মাছেদের যাপন

Abstract Sea Artist: Irini Karpikioti মাছগুলো সাতরায় ,  পাখনা নাড়ে- সাতরায়। সমুদ্রের স্বচ্ছ জলকে তারা ভেবেছে সুন্দরতম বাসস্থান। তারা কি কথা বলে ?  জানি না। কেবল জানি ,  আজ বিকেলে তারা বিকোবে চড়া দামে৷ তারপর শহরের কোন অভিজাত খাবার টেবিলে ,  চার পদের মশলায় চুবিয়ে তাদের খাওয়া হবে। মাছেরা জানে না জীবনের মূল্য ,  কত টাকায় বিক্রি হয় বাজারে। কেবল জানে এই সমুদ্র তাদের সুন্দরতম বাসস্থান। জাল ফেলে রাখা জেলেটির কথা ভাবতে চাই , একটা প্রকান্ড দ্বীপ তার মনেও কী আছে ? সেখানে কয়টা শালিক ওড়ে ? জানি না ,  কেবল জানি মাছ গুলো শীঘ্রই বিকোবে বাজারে। অথচ মাছেরা ভেবেছিলো ,  সমুদ্র তাদের সুন্দরতম বাসস্থান।

অবয়ব

কায়েস মাহমুদ একটা অবয়ব বসে রয়েছে , দুপেয়ে জিন্স প্যান্ট ,  ঢোলা কালো শার্ট ;  অনেকটা মানুষের মতো দেখায়। ইদানীং প্রায়শই অস্তিত্ব সংকটে ভুগি , এই যে অবয়বটি তাকে অনেকেই আমার নাম ধরে ডাকছে। ধরে নিলাম , আমি জানি না অবয়বটির (যাকে অনেকেই আমার নামে ডাকছেন) পরিচয়। সে মানুষ না হয়ে বেবুন বা হায়নাও হতে পারে৷ যদিও স্রষ্টা হতে পারলে ,  আমি তাকে শালিক বানাতাম অথবা ,  একটা বানর৷ তখন হয়তোবা কেউ তাকে দেখে আপ্লুত হতো। অবয়বে চোখ রাখি , ক্রমশ অন্ধকার নেমে আসে। একটা হাসপাতালের গেটে বসে আছে , আট টাকার সিগারেট ফুঁকতে ফুঁকতে চার পাশে চোখ ফ্যালে৷ ক্রমশ অন্ধকার নেমে আসে ,  অবয়বটাকে মানুষ ভাবতে ইচ্ছে হয়। যদিও মানুষ হলে সে কবিতা পড়তো , " ভালোবাসা দিতে পারি ,  তোমরা কি গ্রহণে সক্ষম ?" ক্রমশ অন্ধকার নেমে আসে ,  অবয়বটাকে নিজ নামে ডাকতে ইচ্ছে হয়। একটা অবয়ব বসে রয়েছে , দুপেয়ে জিন্স প্যান্ট ,  ঢোলা কালো শার্ট ;  অনেকটা মানুষের মতো দেখায়। অবয়বে চোখ রাখি-(এখন মূলত অন্ধকার নেমেছে।) নিজ আকৃতি দেখি। দু ' তিন ইঞ্চি উচ্চতা কমে যাক , ...