Skip to main content

Posts

একটি সিরিজ কবিতাঃ অন্ত থেকে করিমুদ্দির শেষকথা

১. অন্ত অহন আন্ধার রাইত, বেবাগডি বিজলি নদীর মইধ্যে চমকায়া উডে। শ্যাষবার যহন খোয়াবে মরন দ্যাখসিলাম, কী কইসিলা মনে আসে? "অমন খোয়াব দেইখো না পরান, অন্তর জইলা যায়। এই জনম তোমার একার না" তাইলে ক্যান গ্যালা মোরে ছাড়ি? বানের জলায় ভাটি যহন ভাইসা যায়, আচানক ভুত দেহার লাহান চমকায়া উডি। য্যান মনে হয় তুমি ভাইসা আহো! "এই জনম তোমার একার না" মুঠি কইরা মোর জনম ডাও লইয়া গ্যালা! আসমানে চান্দ সুরুজ আহে যায়, দেইখা দেইখা বছরডাও চইলা যায়। পাশের ঘরের রইস মিয়ায় কয়, "বয়স তো পইড়া আসে তুমি আরেকটা বিয়া করো মিয়া" তারে ক্যামনে কই? "এই জনম তো মোর একার না" বাদলায় যহন নদীত তুফান আহে, মন চায় চিক্কুর পাইড়া কাইন্দা উডি! "এই জনম তোমার একার না" ক্যান আইলা না পরান আমার? যে রাইত্তে গ্যালা, চান্দের হর এরুমনি আসিল। জোসনা দ্যাখনের শখ আসিল তোমার, হাইসে বাইরে গ্যালি ঘর হতি। পিসে গিয়া কই, "অত আল্লাদ করোনিকো, সুখে মইরে যাই ...

অশ্রু কিংবা গতকালের গল্প

এটি ছিল, একটা তুষারস্রোতের মত শুভ্র; হাটু অবধি নেমে আসা,সোনালী আলো। যা ছিল বিশ্ব থেকে ফিরে আসা, নতুন,কিংবা পুরাতন দিনে। কিন্তু কখনোই,এটি আগামীকাল ছিল না। প্রার্থনা,এবং কেবলই প্রার্থনা! একটি আগামীর জন্য,কিংবা অন্ধকারের। নতুন বছরের প্রার্থনা, উষ্ণ দিনের প্রার্থনা, প্রার্থনা একটি উত্তম দিনের। "প্রভু- আমায় আরেকটা বছর দিন প্রভু, একটা দিবস এবং রাত্রি দিন। যখন মাঝ আকাশে উজ্জ্বল হবে সূর্য, আমায় আরেকটা আগামীকাল দিন! হে প্রভু,আমায় একটা সময়, কিংবা প্রার্থনা দিন, যেখানে কোনো, গতকাল থাকবে না!" আমি একটা রাত্রি বয়ে আনি, একটা দিনের শুরু করি, ডান, কিংবা বাম হস্তে। যখন দিবসের গোলায়,কোন শস্য ছিল না! "জীবন চলে গেছে, সর্বস্বান্ত ভিষন! এখন আমার হাড়ে, মজ্জা নেই, কিংবা আমার মজ্জায়,এখন হাড় নেই! বেরিয়ে পড়েছে। কোন সীসাচ্ছাদিত পর্বত, কিংবা ধুসর স্তনের খোঁজে।" "একি বলছিস! পাপ হচ্ছে যে তোর! তুই তো নরকে যাবি! তোকে আগুনে দেবে, মাথা কেটে নেবে! মরবি! সে খেয়াল আছে তোর?" "মৃত্যু, এখন শুধুই একটা ভুলের অপেক্ষা। কিন্তু, আমার চোখে জল কেন প্রভু? এ মাটিতে যে শোষণ পথ নেই! এ কান্নায় ...

একটি কালো গোলাপ

শালিক গুলো গাছেদের সময়ে চলে। হেসে ওঠে প্রবাহমান গোপন জলের মতো।ডালপালা ছুঁয়ে লাফিয়ে যায় বৃন্ত বিহীন দোতলা আকাশ । একটা চৌকো ঘরে আমরা বসে থাকি। কখনো শালিক, কখনো বা শুয়ো পোকা৷ এই নাভিমূল পৃথিবীতে আমরা চা পান করতে করতে পকেটে রাখি কবিতা। "The grass was greener The light was brighter" ২৩ জুলাই, ২০১৮

একটা প্রকৃত দুপুর

একটা ছোট দোকানঘর। বসে আছি পাঁচটা মানুষ। চা, সিগারেট, বনরুটি চিবুচ্ছি,এটা সেটা গল্প করছি। হঠাৎ কেশে ওঠে এক ঝালমুড়ি আলা। কয়েকটা মটরদানা ছড়িয়ে, নিতান্তই বুড়ো- হাড় মজ্জা ঘুণে ধরা। "তবে রে শালা" খেঁকিয়ে ওঠে একজন। তার বাড়ি পান্দুয়া। দু'টো দোকানের মালিক। তোমার কপালে আশ্চর্য টিপ। আমার হৃদয় টাল খায় প্রতিদিন। ০৯১১২০১৮

কবিতা-৫

একটা বিষাদগ্রস্ত ঘুঘু গান গায় কার্তিকের জ্যোৎস্নায়। মানুষ দেখতে চায় দূরবর্তী মানুষদের।

সূর্য

স্কুলে পড়বার সময় আমার এক বন্ধু ছিলো , পাড়ার দু ' বাড়ি পরে একটা ছোট ঘরে থাকতো। রাতভর ঘুটঘুটে অন্ধকারের পর ভোর হতেই বেরিয়ে পড়তো থলে হাতে , বলতো সূর্য কুড়োতে যাচ্ছে , তার বদ্ধ ঘরটায় প্রচন্ড অন্ধকার। ভোর পেরিয়ে দুপুর হতো , বন্ধুও ফিরে আসতো পা দু ' টো জুড়ে শুধু ধুলো আর কাদার দলাই থাকতো। তার আদমজীর মিলে তৈরি থলেটাতে সূর্য ধরার স্বপ্ন- সম্ভবত বন্ধ হয়ে গিয়েছিলো মিলটার মতোই। ঘরময় তার প্রচন্ড অভাব , গ্লানি , ক্ষুধা , বেকার বাবা , মা মাইনে পায় না তিন মাস। কী এটা ওটা কাজ করে স্কুলের মাইনে দিতো সে। তখন সে সূর্য খুঁজতো কিনা জিজ্ঞেস করা হয় নি , তার হাতে তখন কী সব কাগজপত্রই দেখতাম শুধু। কলেজ কালে যখন ব্যস্ত ছিলাম প্রেমিকার মান ভাঙ্গাতে বন্ধু তখন হাতে করে এনেছিলো একটা টকটকে লাল বই বলেছিলো এখানটায় ঐ সূর্যটা রাখা আছে পাড়ার মাঠে বাদাম চিবুতে চিবুতে শুনেছিলাম তার কথা। এক টাক মাথা দাড়িগোঁফ ওয়ালা লোকের ছবি দেখিয়ে বলেছিলো , "এই লোকটা সূর্য ধরতে জানেন।" তাকে এরপর অনেক দেখেছি , মিছিলে , সভায় , অবরোধে , হাত তুলে স্লোগান দিতো- "এই রাষ্ট্র মানু...

টু লাইনস ( Too Lines )

১. ভয়াবহ যাপনের প্রথম চিহ্ন হিসেবে বহন করা ভ্রম বা মায়া , আমার জীবন। একটি ডুবন্ত জাহাজের মত , প্রতিটি আবেগ গ্রস্ত বক্রতা- আমার অস্তিত্ব। ২. আমার কথা সঙ্গীন হয়ে যাচ্ছে , একটি সংক্রামক ব্যাধির মতো বিচ্ছিন্ন হচ্ছে তাদের হৃদয়। আমি কিনে চলি ফালি ফালি জীবন , এবং; তাদের চিৎকার। আমার মৃতদেহের প্রবল ব্যথা হয়ে , বাজতে থাকে মোজার্ট- সিম্ফনি নম্বর ফর্টি। ৩. আমার কম্পমান আত্মা- বিকৃত কোন কষ্টের স্পর্শে , তাদের মুখরিত অভিশাপের মতো মহৎ হয়ে ওঠে। এই অধঃ পতিত কাকেদের গায়ে চাবুক মারার প্রচণ্ড প্রয়োজন। ৪. হঠাৎ জেগে উঠবার মতো কেঁপে কেঁপে দুঃস্বপ্ন দেখি। একটা বাড়ি , ট্রাক্টর , সুইজারল্যান্ডের কুকুর জিভ বের করে বসে থাকে , জল পান করে। সময়ের প্রচণ্ড ক্লান্তি , সময়ের প্রচণ্ড ক্লান্তি। ৫. ইদানীং মধ্যরাতের সভা কক্ষে , আলোচনায় আসেন মার্ক্স এবং কাফকা। নিতান্তই নন এলকোহলিক এবং সাদামাটা সময় ভেবে , অনুভব করছি- জীবন। বাকুনিন , হে বাকুনিন নৈরাজ্য কী আদতেই নিয়ম ? ৬. পরিত্যক্ত জীবনের শেষ চিহ্ন হিসেবে , রয়ে যাওয়া স্মৃতি- আমার মায়া। একটি ডুবন্ত ...