Skip to main content

টু লাইনস ( Too Lines )



১.
ভয়াবহ যাপনের প্রথম চিহ্ন হিসেবে
বহন করা ভ্রম বা মায়া,
আমার জীবন।
একটি ডুবন্ত জাহাজের মত,
প্রতিটি আবেগ গ্রস্ত বক্রতা-
আমার অস্তিত্ব।
২.
আমার কথা সঙ্গীন হয়ে যাচ্ছে,
একটি সংক্রামক ব্যাধির মতো বিচ্ছিন্ন হচ্ছে তাদের হৃদয়।
আমি কিনে চলি ফালি ফালি জীবন,
এবং; তাদের চিৎকার।
আমার মৃতদেহের প্রবল ব্যথা হয়ে,
বাজতে থাকে মোজার্ট- সিম্ফনি নম্বর ফর্টি।
৩.
আমার কম্পমান আত্মা-
বিকৃত কোন কষ্টের স্পর্শে,
তাদের মুখরিত অভিশাপের মতো মহৎ হয়ে ওঠে।
এই অধঃ পতিত কাকেদের গায়ে চাবুক মারার প্রচণ্ড প্রয়োজন।
৪.
হঠাৎ জেগে উঠবার মতো
কেঁপে কেঁপে দুঃস্বপ্ন দেখি।
একটা বাড়ি, ট্রাক্টর, সুইজারল্যান্ডের কুকুর
জিভ বের করে বসে থাকে, জল পান করে।
সময়ের প্রচণ্ড ক্লান্তি, সময়ের প্রচণ্ড ক্লান্তি।
৫.
ইদানীং মধ্যরাতের সভা কক্ষে,
আলোচনায় আসেন মার্ক্স এবং কাফকা।
নিতান্তই নন এলকোহলিক এবং সাদামাটা
সময় ভেবে, অনুভব করছি- জীবন।
বাকুনিন, হে বাকুনিন
নৈরাজ্য কী আদতেই নিয়ম?
৬.
পরিত্যক্ত জীবনের শেষ চিহ্ন হিসেবে,
রয়ে যাওয়া স্মৃতি-
আমার মায়া।
একটি ডুবন্ত জাহাজের মত,
প্রতিটি আবেগ গ্রস্ত বক্রতা-
আমার অস্তিত্ব।
৭.
আজকাল প্রতিটি সান্ধ্য কালীন আড্ডায়,
কঙ্কালসার পতিত বিপ্লবী এবং বুদ্ধিজীবী কাকেদের
আমি একটি কবিতা শোনাতে চাই-
জগতের গতিময়তায় সমস্ত পতিত আত্মাকে, আমরা ভুলে যাবো।

Comments

Popular posts from this blog

একজন মডার্নিস্টের মাজার দেখা: “শরীফ উদ্দিনের গান : ওরা এবং ‘অরা’” হেমায়েত উল্লাহ ইমনের প্রবন্ধের পাঠপ্রতিক্রিয়া

প্রাককথন: মাজার ব্যাপারটাকে ইদানীং কালে  বাংলাদেশের প্রগ্রেসিভরা অনেকেই সেলিব্রেট করছেন সালাফিদের আগ্রাসনের এগেইন্সটে। আমার মডার্নিস্ট মন অবশ্য সালাফির জন্য যেমন মাজারের জন্যও তেমন। কারো প্রতিই এইখানে আগ্রহ নাই। কিন্তু এইখানে গুরুত্বপূর্ণ এই যে মাজার যখন ডমিন্যান্ট ছিলো তখন সে মানুষের উপর হামতাম করলেও, এখন সে ডমিন্যান্ট না; উলটো অন্যের ডোমিন্যান্সির স্বীকার। যেকারণে সেলিব্রেট না করলেও তার প্রতি আমার গ্রাজ নাই, বরং তার মানবাধিকার এর পক্ষেই অবস্থান নিবো। কিন্তু দেন এগেইন মাজারই আসল অন্যরা নকল এইসব বলে মাজারকে ওভারগ্লোরিফাই করার লাইনও আসলে আমার না। দিন শেষে দুইটাই প্রবলেমেটিক ইলেমেন্ট আমার রিডিং এ। মাজার তো কাল্টই, এই কাল্টের মহানতার তো কিছু নাই। দেশে আলাপ গুলো চিরকালই অস্তিত্ব রক্ষার নিরিখে হয় দুঃখজনক ভাবে। যেকারণে দেখা যায় পাড় নাস্তিকরা মাজারকে সহিহ ইসলাম বলে সেলিব্রিট করে সালাফিদের উৎপাতের বিপরীতে। যদিও মাজারের এখনকার ঢালাও নিরিহ রুপ তার ক্ষমতা হারানোর সাথে কানেক্টেড। ক্ষমতা থাকতে তার একাধিক রুপ ছিলো। কেউ ডোমিন্যান্ট কেউ এগ্রেসিভ। সেইখানেও আবার ওই সহিহ অসহিহ এর প্রসঙ্গ টানবেন সম্ভব...

সমুদ্রগামী রাজহাঁস, এবং তুমি

স্বর্গের নির্বোধ হুরপরীদের চাই নি বলে, আমি এক স্বেচ্ছা নিমজ্জিত রাজহাঁস- ডুবে যাই সমুদ্র জলে। একটি দ্বীপে, একটি উজ্জ্বল জ্বলজ্বলে দ্বীপে- তোমার বুক স্বর্গে ঢুকে পড়বার আগে- আমি মানুষ নই, এক বিজন শালিক তোমার বুকের তিলে ডুবে গিয়ে স্বর্গবাসী হই। ভূমধ্যসাগর থেকে গ্রিক রমণীর শখের ফিশবোলে যাতায়াতের মাঝে- একটা রঙিন মাছ তুলে দেখি উজ্জ্বল আকাশ। তোমার বুকের তারায় পুড়ে আমি স্বর্গবাসী হই। তবু আমি এক স্বেচ্ছাচারী রাজহাঁস, ডুবে যাই তোমার সমুদ্র চোখে। স্বর্গের নির্বোধ হুরপরীদের, এখন হাঙর ধরার মৌসুম।

উলটানো পৃথিবীর ইঁদুর

যাপিত মৃত্যু ভেবে পেরিয়ে যাই ওরাংওটাং এর জীবন। চোখ বন্ধ করলেই হিসহিসিয়ে ওঠে বিষধর সাপ। জেব্রার সাদা ডোরায় দুর্গা প্রতিমা দেখে প্রতিমুহূর্তে এগুতে চাই, 'মা জয় মা' প্রলাপ করি, প্রলাপে ভাত জোটে না। দু'বেলা খেতে পারি ভেবে শান্ত হতে বলে দু'টো ইঁদুর। বড় হয়ে আমিও ভালো ইঁদুর হবো। এই শালার ভাগাড়ের জীবন, অথচ কতবার ভেবেছি- একবার ব্যাংকার হলেই ছুঁয়ে থাকবো তোমার চুল, সফেদ ওড়নায় ঢাকা পড়বে আমার হাত। সুদিন আসবে বলে জেব্রার গায়ে করেছি জোবেদা হিসাব। কিন্তু এখানে এখন উলটানো থালা, সব ব্যর্থ ইঁদুরদের বাসভুমি। এখন তোমার আঁচলে দুর্গামূর্তি দেখি না, চোখ বন্ধ করলেই হিসহিসিয়ে ওঠে বিষধর সাপ। পেটে প্রচন্ড খিদে, হাত দু'টো আজো বেকার। প্রলাপে ভাত জোটে না। ইঁদুর দু'টো আমায় ছেড়েছে তোমার আগেই। চৌদ্দই ডিসেম্বর দু'হাজার আঠারো   স্থানঃ ঢাকা থেকে ক্যাম্পাসগামী বাসের পেছনের সিট