Skip to main content

নব্য সাম্রাজ্যবাদের যুগে, হে প্রিয়তমা



তোমার সাথে বহুদিন কথা হয় আমার।
ইদানীং বিমর্ষ গ্রীষ্মের মতো,
কী অদ্ভুত চোখে তাকিয়ে থাকো। 
আমি ভুলে যাই বাকিসব৷ চুড়ান্তের কবিতাটা কেমন ছিলো, বাহিরে বৃষ্টি হচ্ছে কিনা, তুমি চশমা পরো কি পরো না, তোমার চুল হাঁটু ছুঁয়েছে নাকি কাঁধ, বাজারে পাসপোর্টের কেমন দাম!

একটা প্রচন্ডতার গল্প শোনানো যাক তোমায়।
ভাবছিলাম। তোমার সাথে প্রথম দ্যাখা, কোথায়? 
একটা কবিতা কিংবা অসাধারণ ছবির কথা আমার মনে পড়ে।
এই যে বাড়ি ফিরেছি, সারাদেশ বন্ধ হয়ে গেলে-
আমি ক্রমাগত ইতিহাস পড়ি।

"আলাপটা বিশাল৷ ভেংগে ভেংগে করা যাক। তৃতীয় ভূ-স্তর  যুগের শেষের দিকে গ্রীষ্ম মন্ডলের গর্ভে নিমজ্জিত- 
এক বিশাল মহাদেশে উন্নত কিছুটা মনুষ্যাকৃতির এক বানর জাতির বাস ছিল। ডারউইনের বর্ননায় এদের কথা পাওয়া যায়।" 
কথা বলে যাবার জন্য নিতান্তই বাজে চেষ্টা হতে পারে।
নিওপ্রোটারোজোয়িক যুগ নিয়েও আলাপ করা যায়।
তবুও বানরেরা ভালোবাসে, মানবিক হতে চায়। 

তোমার আশ্চর্য চোখগুলো দেখি, কয়টা সমুদ্র সেখানে ডুবে গেছে? আমি জানি না।
আমি শুধু জানি, আমাদের নব্য আদীম পূর্বপুরুষদের মতোই পৃথিবীতে ছড়িয়ে গেছি আমরা, মানুষেরা৷ 
ধ্বংস এবং নির্মানের দ্বান্দ্বিক দশায় মার খাচ্ছি স্বভাবতই।  

এমন শীত বসন্তের রাতে হঠাৎ বৃষ্টি হলে মন্দ লাগে না।
তোমাকে শোনাবার জন্য একটা কবিতা লিখে ফেলা যায়।
তোমার চোখে মূলত জমে আছে একটা আস্ত মহাসাগর,  
অথচ, আমাদের পৃথিবী থেকে নাকি ভালোবাসা হারিয়ে গেছে!

Comments

Popular posts from this blog

একজন মডার্নিস্টের মাজার দেখা: “শরীফ উদ্দিনের গান : ওরা এবং ‘অরা’” হেমায়েত উল্লাহ ইমনের প্রবন্ধের পাঠপ্রতিক্রিয়া

প্রাককথন: মাজার ব্যাপারটাকে ইদানীং কালে  বাংলাদেশের প্রগ্রেসিভরা অনেকেই সেলিব্রেট করছেন সালাফিদের আগ্রাসনের এগেইন্সটে। আমার মডার্নিস্ট মন অবশ্য সালাফির জন্য যেমন মাজারের জন্যও তেমন। কারো প্রতিই এইখানে আগ্রহ নাই। কিন্তু এইখানে গুরুত্বপূর্ণ এই যে মাজার যখন ডমিন্যান্ট ছিলো তখন সে মানুষের উপর হামতাম করলেও, এখন সে ডমিন্যান্ট না; উলটো অন্যের ডোমিন্যান্সির স্বীকার। যেকারণে সেলিব্রেট না করলেও তার প্রতি আমার গ্রাজ নাই, বরং তার মানবাধিকার এর পক্ষেই অবস্থান নিবো। কিন্তু দেন এগেইন মাজারই আসল অন্যরা নকল এইসব বলে মাজারকে ওভারগ্লোরিফাই করার লাইনও আসলে আমার না। দিন শেষে দুইটাই প্রবলেমেটিক ইলেমেন্ট আমার রিডিং এ। মাজার তো কাল্টই, এই কাল্টের মহানতার তো কিছু নাই। দেশে আলাপ গুলো চিরকালই অস্তিত্ব রক্ষার নিরিখে হয় দুঃখজনক ভাবে। যেকারণে দেখা যায় পাড় নাস্তিকরা মাজারকে সহিহ ইসলাম বলে সেলিব্রিট করে সালাফিদের উৎপাতের বিপরীতে। যদিও মাজারের এখনকার ঢালাও নিরিহ রুপ তার ক্ষমতা হারানোর সাথে কানেক্টেড। ক্ষমতা থাকতে তার একাধিক রুপ ছিলো। কেউ ডোমিন্যান্ট কেউ এগ্রেসিভ। সেইখানেও আবার ওই সহিহ অসহিহ এর প্রসঙ্গ টানবেন সম্ভব...

সমুদ্রগামী রাজহাঁস, এবং তুমি

স্বর্গের নির্বোধ হুরপরীদের চাই নি বলে, আমি এক স্বেচ্ছা নিমজ্জিত রাজহাঁস- ডুবে যাই সমুদ্র জলে। একটি দ্বীপে, একটি উজ্জ্বল জ্বলজ্বলে দ্বীপে- তোমার বুক স্বর্গে ঢুকে পড়বার আগে- আমি মানুষ নই, এক বিজন শালিক তোমার বুকের তিলে ডুবে গিয়ে স্বর্গবাসী হই। ভূমধ্যসাগর থেকে গ্রিক রমণীর শখের ফিশবোলে যাতায়াতের মাঝে- একটা রঙিন মাছ তুলে দেখি উজ্জ্বল আকাশ। তোমার বুকের তারায় পুড়ে আমি স্বর্গবাসী হই। তবু আমি এক স্বেচ্ছাচারী রাজহাঁস, ডুবে যাই তোমার সমুদ্র চোখে। স্বর্গের নির্বোধ হুরপরীদের, এখন হাঙর ধরার মৌসুম।

উলটানো পৃথিবীর ইঁদুর

যাপিত মৃত্যু ভেবে পেরিয়ে যাই ওরাংওটাং এর জীবন। চোখ বন্ধ করলেই হিসহিসিয়ে ওঠে বিষধর সাপ। জেব্রার সাদা ডোরায় দুর্গা প্রতিমা দেখে প্রতিমুহূর্তে এগুতে চাই, 'মা জয় মা' প্রলাপ করি, প্রলাপে ভাত জোটে না। দু'বেলা খেতে পারি ভেবে শান্ত হতে বলে দু'টো ইঁদুর। বড় হয়ে আমিও ভালো ইঁদুর হবো। এই শালার ভাগাড়ের জীবন, অথচ কতবার ভেবেছি- একবার ব্যাংকার হলেই ছুঁয়ে থাকবো তোমার চুল, সফেদ ওড়নায় ঢাকা পড়বে আমার হাত। সুদিন আসবে বলে জেব্রার গায়ে করেছি জোবেদা হিসাব। কিন্তু এখানে এখন উলটানো থালা, সব ব্যর্থ ইঁদুরদের বাসভুমি। এখন তোমার আঁচলে দুর্গামূর্তি দেখি না, চোখ বন্ধ করলেই হিসহিসিয়ে ওঠে বিষধর সাপ। পেটে প্রচন্ড খিদে, হাত দু'টো আজো বেকার। প্রলাপে ভাত জোটে না। ইঁদুর দু'টো আমায় ছেড়েছে তোমার আগেই। চৌদ্দই ডিসেম্বর দু'হাজার আঠারো   স্থানঃ ঢাকা থেকে ক্যাম্পাসগামী বাসের পেছনের সিট