Skip to main content

যদি আমাকে ভুলে যাও

এই একটি কথা,
তোমাকে বলতে চাই।

তুমি জানো, এমনটা কী করে হয়:
লালচে হয়ে ওঠা ডালপালার ভেতর দিয়ে
আমি যদি স্বচ্ছ ওই চাঁদটার দিকে তাকাই, আমার জানলায়, ধীর পায়ে হেঁটে চলা হেমন্ত রাতে।
যদি স্পর্শ করি
আগুনের স্পর্শে চেয়ে থাকা
বিষাদময় অবশেষ।
অথবা বাকল কুঁচকে যাওয়া কাঠের গুঁড়ি,
এর সবকিছুই আমাকে টেনে নিয়ে যায় তোমার কাছে,
যেন যা কিছুই বিদ্যমান .
সুগন্ধী, আলো, ধাতু,
প্রত্যেকে একেকটি ছইওয়ালা নৌকা,
পাল তুলে ছুটে যায় তোমার দ্বীপপুঞ্জের দিকে
যা অপেক্ষমান শুধু আমারই জন্য।

অবশ্য,
যদি তুমি আমাকে ভালো না বাসো,
আমিও একটু একটু করে ভুলে যেতে থাকবো তোমাকে।

যদি হঠাৎ
তুমি ভুলে যাও আমাকে
ভেবে নিয়ে, এরই মাঝে ভুলে গেছি তোমাকে।
যদি তুমি ভাবো,
উদ্ধত পতাকা নাড়িয়ে দেবার মত, আমার জীবন জুড়ে বয়ে চলা-
এই হাওয়া, এই পাগলামি,
অনেকতো হলো!

আর মনোস্থির করো
আমাকে হৃদয়ের এপাড়ে ফেলে যাবে,
যেখানে শেকড় গেঁড়েছি আমি,
তা হ'লে মনে রেখো,
সে দিন,
সে মুহূর্তে,
আমি মেলে দেবো ডানা দুটি
আমার শেকড়গুলো উড়ে যাবে
নতুন কোন ভূখণ্ডে।

কিন্তু
প্রতিদিন,
প্রতি ঘন্টায়,
যদি তুমি ভেবে নাও, অনিঃশেষ উপভোগে ,
তুমিই আমার নিয়তি,
যদি প্রতিদিন এইই ফুলগুলো
আমারই জন্য এসে পড়ে তোমার দু’ ঠোঁটে,
আহ! প্রিয়তমা ! আমার একান্ত আপন,
আমার সমস্ত কামনা জ্বলে উঠবে আবার,
নিভবেনা একটুখানিও, ভুলেও যাবো না
প্রতি মুহূর্তের এই পাওয়া,
প্রিয়তমা, তোমার ভালোবাসা বেঁচে থাকবে আমার প্রেমে,
আর যতদিন বেঁচে থাকবে তুমি,প্রিয় আমার,
তোমার বাহুডোরেই কাটিয়ে দেবো, আমার সমস্ত জীবন।

মূলঃ If you forget me by Pablo Neruda
অনুবাদঃ কায়েস মাহমুদ


Comments

Popular posts from this blog

একজন মডার্নিস্টের মাজার দেখা: “শরীফ উদ্দিনের গান : ওরা এবং ‘অরা’” হেমায়েত উল্লাহ ইমনের প্রবন্ধের পাঠপ্রতিক্রিয়া

প্রাককথন: মাজার ব্যাপারটাকে ইদানীং কালে  বাংলাদেশের প্রগ্রেসিভরা অনেকেই সেলিব্রেট করছেন সালাফিদের আগ্রাসনের এগেইন্সটে। আমার মডার্নিস্ট মন অবশ্য সালাফির জন্য যেমন মাজারের জন্যও তেমন। কারো প্রতিই এইখানে আগ্রহ নাই। কিন্তু এইখানে গুরুত্বপূর্ণ এই যে মাজার যখন ডমিন্যান্ট ছিলো তখন সে মানুষের উপর হামতাম করলেও, এখন সে ডমিন্যান্ট না; উলটো অন্যের ডোমিন্যান্সির স্বীকার। যেকারণে সেলিব্রেট না করলেও তার প্রতি আমার গ্রাজ নাই, বরং তার মানবাধিকার এর পক্ষেই অবস্থান নিবো। কিন্তু দেন এগেইন মাজারই আসল অন্যরা নকল এইসব বলে মাজারকে ওভারগ্লোরিফাই করার লাইনও আসলে আমার না। দিন শেষে দুইটাই প্রবলেমেটিক ইলেমেন্ট আমার রিডিং এ। মাজার তো কাল্টই, এই কাল্টের মহানতার তো কিছু নাই। দেশে আলাপ গুলো চিরকালই অস্তিত্ব রক্ষার নিরিখে হয় দুঃখজনক ভাবে। যেকারণে দেখা যায় পাড় নাস্তিকরা মাজারকে সহিহ ইসলাম বলে সেলিব্রিট করে সালাফিদের উৎপাতের বিপরীতে। যদিও মাজারের এখনকার ঢালাও নিরিহ রুপ তার ক্ষমতা হারানোর সাথে কানেক্টেড। ক্ষমতা থাকতে তার একাধিক রুপ ছিলো। কেউ ডোমিন্যান্ট কেউ এগ্রেসিভ। সেইখানেও আবার ওই সহিহ অসহিহ এর প্রসঙ্গ টানবেন সম্ভব...

সমুদ্রগামী রাজহাঁস, এবং তুমি

স্বর্গের নির্বোধ হুরপরীদের চাই নি বলে, আমি এক স্বেচ্ছা নিমজ্জিত রাজহাঁস- ডুবে যাই সমুদ্র জলে। একটি দ্বীপে, একটি উজ্জ্বল জ্বলজ্বলে দ্বীপে- তোমার বুক স্বর্গে ঢুকে পড়বার আগে- আমি মানুষ নই, এক বিজন শালিক তোমার বুকের তিলে ডুবে গিয়ে স্বর্গবাসী হই। ভূমধ্যসাগর থেকে গ্রিক রমণীর শখের ফিশবোলে যাতায়াতের মাঝে- একটা রঙিন মাছ তুলে দেখি উজ্জ্বল আকাশ। তোমার বুকের তারায় পুড়ে আমি স্বর্গবাসী হই। তবু আমি এক স্বেচ্ছাচারী রাজহাঁস, ডুবে যাই তোমার সমুদ্র চোখে। স্বর্গের নির্বোধ হুরপরীদের, এখন হাঙর ধরার মৌসুম।

অরাজনৈতিক জীবন

আমি একটা অরাজনৈতিক জীবন কাটাই এলাকার কুত্তা ঘেউ ঘেউ কইরা ডাকে আমি প্রচন্ড অরাজনৈতিক জীবন কাটাই এক দুপ্রে ফালগুনী পর্বার পর আমার আর কিছু করার নাই আমার আর কিছু করার নাই বইলা হাংরিদেরই পর্তে থাকি গুরুপাক সাহিত্য আমার প্যাটে সয় না আমি শুনেছি সেদিন নাকি তুমি তুমি তুমি মিলে তোমরা সদলবলে সভা করেছিলে সারে সা সারে সারে সা আমি একটা অরাজনৈতিক জীবন কাটাই টংগে ক্যাপাস্টেন নাই হাইটা কিরণের সাম্নে গিয়া বিড়ি ফুঁকি আকাশ ভ্রমনে গেলে ক্যাপাস্ট্যান পাবো না যখন আকাশ ভ্রমণে যাবো তখন কোবতে কর্তে পার্বো না বইলা আমি হাংরিদের পর্তে থাকি এলাকার কুত্তায় ডাকে ঘেউ ঘেউ ঘেউ ঘেউ আমার চৌকিদারের গায়ে দোতলা থেইকা পানি ঢাইলা দিতে মঞ্চায় কুত্তার আর শিয়ালের ল্যাঞ্জার পার্থক্য নিয়া কেউ কোবতে ল্যাখে নাই দোতলা থেইকা পানি ফালানো নিয়া আমার একটা কাহিনী আছে ছোট বেলার দিকে একবার এক লোকের মাথায় ঢাইলা দিছিলাম মগে কইরা বারান্দায় দাঁড়াইয়া সোজা নিচে এক লোক ছিলো রিকশায় সাইজা গুইজা যাইতেছিলো যেই লোক তার মাথায় ঢাইলা দিছিলাম কাট কাট কাট উপরের প্যারাটা কত ভাবে পড়া যায় গুরুপাক সাহিত্য আমার প্যাটে সয় না কিছু করার নাই বইল...