Skip to main content

লিজা গোমেজ আপনাকে...



**
লিজা গোমেজ, আপনাকে বলছি,
মাঝরাত্রে গির্জার ঢং ঢং ঘন্টায়, কী করুণ সিম্ফনি তৈরি হয়-
শুনেছেন কখনো?
বৈষয়িকতায় বেথহোভেনের সমতুল্য না হলেও,
আমার নিষঙ্গ গিটার সোলোর চেয়ে অনেক বেশি প্রাসঙ্গিক।
**
লিজা গোমেজ, আমরা ক্রমশ আপনি হয়ে উঠছি,
একটা পুরু আস্তরণ পড়ে চলছে দিনকে দিন-
দেয়ালের পর দেয়াল।
না না! ওখানে নয়! ওখানে তুমি ছিলে!
**
সাংবিধানিক সতর্কীকরণ "ধুমপান মৃত্যু ঘটায়"
মূলত জন্মই মৃত্যুর কারণ নয় কী?
চলুন, আমাদের অনাগত সন্তানের মঙ্গল কামনায়,
ধন্যবাদ জানাই- সকল অনিষিক্ত ডিম্বাণুকে!

**
আমাদের প্রথম দেখা কোথায় হয়েছিলো?
টিউশনে?
গির্জায়?
আশ্রমে কিংবা লাইব্রেরিতে?
নাকি-
গোরস্থানে?

**
লিজা গোমেজ, অন্য সব প্রেমিকের মত-
আমার কখনোই আপনার স্বামী হয়ে ওঠা হয় নি!
বস্তুত, প্রেম এবং অপ্রেম একই সঙ্গে ছিলো আমাদের।
অথবা, বলা যায়- অপ্রেম এবং প্রেম একই সঙ্গে আমাদের ছিলো।

**
সম্ভবত কবিতাটা শুরু হয়েছিলো শীতে,
প্রচণ্ড শীতে।
ভর সন্ধ্যেয় আমরা গেয়েছিলাম, পিংক ফ্লয়েড-
"উইশ ইউ ওয়্যার হিয়ার"
আমরা দুঃখিত হয়েছিলাম,
আপনার প্রিয় গায়ক জিম মরিসনের মৃত্যুতে।
মহান শিল্পি মরে পড়েছিলেন বাথটাবে!
আমরা ভাবছিলাম - "আর ক'টা লাশ পড়লে আসবে শান্তি!"
ইরাকে ছুটে চলছে বোমা , প্যালেস্টাইন এ চলছে আগ্রাসন।
আমরা খুঁজছিলাম, ওসামার কবর কিংবা, প্রিন্সেস ডায়ানার অন্তর্বাস।
বস্তুত, আমরা আকাঙ্ক্ষা করছিলাম প্রেমের!

**
রাত তিনটে,
এখন পড়ছি বাইবেল কোন একটি চ্যাপ্টার।
ধরে নিলাম, আপনার জমজ স্তনের ছড়ানো চুলগুচ্ছে,
খেলে চলছে একটি অযাচিত কিংবা অতি কাঙ্ক্ষিত হাত!
যেমনটা লেখা রয়েছে ডেভিডের গল্পে!
এর চেয়ে চলুন আমরা পাঠ করি ডার্ক পোয়েট্রি,
প্রার্থনার ছলে, খুন করি সকল পুণ্যাত্মা কে।

**

"তোমায় পেয়েছিলাম হঠাৎ, এক শীতের দুপুরে।
মৃদুস্বরে, একটু ঘুরিয়ে -বলেছিলে ভালবাসি। "

মূলত এসব অনেক আগেকার কথা,
এখন আমাদের মাঝে প্রেম নেই, আমাদের মাঝে তুমি নেই।
প্রেম হয়েছে সামাজিকতা, আর তুমি হয়ে উঠছো আপনি!

**
কবি মরে গেলে,
লাশ ঘিরে বসে থাকে ছ'টি পিঁপড়ে!

**

লিজা গোমেজ, "আপনি আমার তুমি হবেন?"
বিশ্বাস করুন, আমি মৃত নই!
বস্তুত, একবার প্রেমে মরে গেলে, দ্বিতীয়বার মৃত্যু হয় না!...

Comments

Popular posts from this blog

একজন মডার্নিস্টের মাজার দেখা: “শরীফ উদ্দিনের গান : ওরা এবং ‘অরা’” হেমায়েত উল্লাহ ইমনের প্রবন্ধের পাঠপ্রতিক্রিয়া

প্রাককথন: মাজার ব্যাপারটাকে ইদানীং কালে  বাংলাদেশের প্রগ্রেসিভরা অনেকেই সেলিব্রেট করছেন সালাফিদের আগ্রাসনের এগেইন্সটে। আমার মডার্নিস্ট মন অবশ্য সালাফির জন্য যেমন মাজারের জন্যও তেমন। কারো প্রতিই এইখানে আগ্রহ নাই। কিন্তু এইখানে গুরুত্বপূর্ণ এই যে মাজার যখন ডমিন্যান্ট ছিলো তখন সে মানুষের উপর হামতাম করলেও, এখন সে ডমিন্যান্ট না; উলটো অন্যের ডোমিন্যান্সির স্বীকার। যেকারণে সেলিব্রেট না করলেও তার প্রতি আমার গ্রাজ নাই, বরং তার মানবাধিকার এর পক্ষেই অবস্থান নিবো। কিন্তু দেন এগেইন মাজারই আসল অন্যরা নকল এইসব বলে মাজারকে ওভারগ্লোরিফাই করার লাইনও আসলে আমার না। দিন শেষে দুইটাই প্রবলেমেটিক ইলেমেন্ট আমার রিডিং এ। মাজার তো কাল্টই, এই কাল্টের মহানতার তো কিছু নাই। দেশে আলাপ গুলো চিরকালই অস্তিত্ব রক্ষার নিরিখে হয় দুঃখজনক ভাবে। যেকারণে দেখা যায় পাড় নাস্তিকরা মাজারকে সহিহ ইসলাম বলে সেলিব্রিট করে সালাফিদের উৎপাতের বিপরীতে। যদিও মাজারের এখনকার ঢালাও নিরিহ রুপ তার ক্ষমতা হারানোর সাথে কানেক্টেড। ক্ষমতা থাকতে তার একাধিক রুপ ছিলো। কেউ ডোমিন্যান্ট কেউ এগ্রেসিভ। সেইখানেও আবার ওই সহিহ অসহিহ এর প্রসঙ্গ টানবেন সম্ভব...

সমুদ্রগামী রাজহাঁস, এবং তুমি

স্বর্গের নির্বোধ হুরপরীদের চাই নি বলে, আমি এক স্বেচ্ছা নিমজ্জিত রাজহাঁস- ডুবে যাই সমুদ্র জলে। একটি দ্বীপে, একটি উজ্জ্বল জ্বলজ্বলে দ্বীপে- তোমার বুক স্বর্গে ঢুকে পড়বার আগে- আমি মানুষ নই, এক বিজন শালিক তোমার বুকের তিলে ডুবে গিয়ে স্বর্গবাসী হই। ভূমধ্যসাগর থেকে গ্রিক রমণীর শখের ফিশবোলে যাতায়াতের মাঝে- একটা রঙিন মাছ তুলে দেখি উজ্জ্বল আকাশ। তোমার বুকের তারায় পুড়ে আমি স্বর্গবাসী হই। তবু আমি এক স্বেচ্ছাচারী রাজহাঁস, ডুবে যাই তোমার সমুদ্র চোখে। স্বর্গের নির্বোধ হুরপরীদের, এখন হাঙর ধরার মৌসুম।

অরাজনৈতিক জীবন

আমি একটা অরাজনৈতিক জীবন কাটাই এলাকার কুত্তা ঘেউ ঘেউ কইরা ডাকে আমি প্রচন্ড অরাজনৈতিক জীবন কাটাই এক দুপ্রে ফালগুনী পর্বার পর আমার আর কিছু করার নাই আমার আর কিছু করার নাই বইলা হাংরিদেরই পর্তে থাকি গুরুপাক সাহিত্য আমার প্যাটে সয় না আমি শুনেছি সেদিন নাকি তুমি তুমি তুমি মিলে তোমরা সদলবলে সভা করেছিলে সারে সা সারে সারে সা আমি একটা অরাজনৈতিক জীবন কাটাই টংগে ক্যাপাস্টেন নাই হাইটা কিরণের সাম্নে গিয়া বিড়ি ফুঁকি আকাশ ভ্রমনে গেলে ক্যাপাস্ট্যান পাবো না যখন আকাশ ভ্রমণে যাবো তখন কোবতে কর্তে পার্বো না বইলা আমি হাংরিদের পর্তে থাকি এলাকার কুত্তায় ডাকে ঘেউ ঘেউ ঘেউ ঘেউ আমার চৌকিদারের গায়ে দোতলা থেইকা পানি ঢাইলা দিতে মঞ্চায় কুত্তার আর শিয়ালের ল্যাঞ্জার পার্থক্য নিয়া কেউ কোবতে ল্যাখে নাই দোতলা থেইকা পানি ফালানো নিয়া আমার একটা কাহিনী আছে ছোট বেলার দিকে একবার এক লোকের মাথায় ঢাইলা দিছিলাম মগে কইরা বারান্দায় দাঁড়াইয়া সোজা নিচে এক লোক ছিলো রিকশায় সাইজা গুইজা যাইতেছিলো যেই লোক তার মাথায় ঢাইলা দিছিলাম কাট কাট কাট উপরের প্যারাটা কত ভাবে পড়া যায় গুরুপাক সাহিত্য আমার প্যাটে সয় না কিছু করার নাই বইল...