Skip to main content

রুপোলী চাঁদের চাঁদোয়ায়

(ইরু কে)

তোমা়েয় পেয়েছিলাম হঠাৎ,
এক শীতের দুপুরে।
মৃদুস্বরে, একটু ঘুরিয়ে
বলেছিলে ভালবাসি।
বুঝিনি তখন, ভাবলাম কী না কী!
রাম ঠাকুরের আশ্রমে ঢল পড়া এক সন্ধায়,
বলেছিলে, " সব কী মুখে বলতে হয় গো সাঁই? "
" কবির মন এতই অবোধ আজকাল!"
নির্বোধ হয়ে গেলাম,
"সব কী মুখে বলতে হয়"
কানে বাজতে লাগলো!
তবু, বুঝিনি। প্রবঞ্চনা হয়তো,
নিজেকে বলি।
এমন হয় নাকি!

তারপর চলে গেছে অসংখ্য রাত,
আমাদের কথা হয়নি।
পৌষ পার্বণের মেলায়, তোমায় দেখেছিলাম।
লালচে শাড়ির আচল বেয়ে চলছিলো বাসন্তি ফুল,
বৈশাখের আগমনী গান যেন বেজে চলছিলো তোমার চুলের খোঁপায়।
বন্ধুদের ভিড় থেকে সেদিন চেয়েছিলাম আড়চোখে।
চুপ ছিলাম সেদিনো, আমাদের কোন কথা হয় নি।


কিন্তু , নক্ষত্রের এই অগ্নি ঝরা রাতে,
কপালে একটা ত্রিকোনা টিপ,
পরনে লালচে শাড়ি,
নিলচে পাড়ের ছটায়
মৃন্ময়ী তুমি,
চিবুক ছুইয়ে বললে,
"প্রিয়, ভালোবাসি তোমায়"
রাতের চাঁদ এক হয়ে গেল,
বারান্দায় সাজা ক্যামেলিয়ার সাদায়।
রুপোলী চাঁদের নগ্ন আলোকচ্ছটায়,
জোৎস্না সাগরে ভাসিয়ে দিই,
আমার অন্তর,বাহির সবটা।
কৃষ্ণচূড়ার আগুন ছুঁয়ে ছুঁয়ে বাসন্তী বাতাসের ডাকে শুনি-

"প্রিয়, ভালোবাসি তোমায়!"
নভেম্বর,২০১৫

Comments

Popular posts from this blog

একজন মডার্নিস্টের মাজার দেখা: “শরীফ উদ্দিনের গান : ওরা এবং ‘অরা’” হেমায়েত উল্লাহ ইমনের প্রবন্ধের পাঠপ্রতিক্রিয়া

প্রাককথন: মাজার ব্যাপারটাকে ইদানীং কালে  বাংলাদেশের প্রগ্রেসিভরা অনেকেই সেলিব্রেট করছেন সালাফিদের আগ্রাসনের এগেইন্সটে। আমার মডার্নিস্ট মন অবশ্য সালাফির জন্য যেমন মাজারের জন্যও তেমন। কারো প্রতিই এইখানে আগ্রহ নাই। কিন্তু এইখানে গুরুত্বপূর্ণ এই যে মাজার যখন ডমিন্যান্ট ছিলো তখন সে মানুষের উপর হামতাম করলেও, এখন সে ডমিন্যান্ট না; উলটো অন্যের ডোমিন্যান্সির স্বীকার। যেকারণে সেলিব্রেট না করলেও তার প্রতি আমার গ্রাজ নাই, বরং তার মানবাধিকার এর পক্ষেই অবস্থান নিবো। কিন্তু দেন এগেইন মাজারই আসল অন্যরা নকল এইসব বলে মাজারকে ওভারগ্লোরিফাই করার লাইনও আসলে আমার না। দিন শেষে দুইটাই প্রবলেমেটিক ইলেমেন্ট আমার রিডিং এ। মাজার তো কাল্টই, এই কাল্টের মহানতার তো কিছু নাই। দেশে আলাপ গুলো চিরকালই অস্তিত্ব রক্ষার নিরিখে হয় দুঃখজনক ভাবে। যেকারণে দেখা যায় পাড় নাস্তিকরা মাজারকে সহিহ ইসলাম বলে সেলিব্রিট করে সালাফিদের উৎপাতের বিপরীতে। যদিও মাজারের এখনকার ঢালাও নিরিহ রুপ তার ক্ষমতা হারানোর সাথে কানেক্টেড। ক্ষমতা থাকতে তার একাধিক রুপ ছিলো। কেউ ডোমিন্যান্ট কেউ এগ্রেসিভ। সেইখানেও আবার ওই সহিহ অসহিহ এর প্রসঙ্গ টানবেন সম্ভব...

সমুদ্রগামী রাজহাঁস, এবং তুমি

স্বর্গের নির্বোধ হুরপরীদের চাই নি বলে, আমি এক স্বেচ্ছা নিমজ্জিত রাজহাঁস- ডুবে যাই সমুদ্র জলে। একটি দ্বীপে, একটি উজ্জ্বল জ্বলজ্বলে দ্বীপে- তোমার বুক স্বর্গে ঢুকে পড়বার আগে- আমি মানুষ নই, এক বিজন শালিক তোমার বুকের তিলে ডুবে গিয়ে স্বর্গবাসী হই। ভূমধ্যসাগর থেকে গ্রিক রমণীর শখের ফিশবোলে যাতায়াতের মাঝে- একটা রঙিন মাছ তুলে দেখি উজ্জ্বল আকাশ। তোমার বুকের তারায় পুড়ে আমি স্বর্গবাসী হই। তবু আমি এক স্বেচ্ছাচারী রাজহাঁস, ডুবে যাই তোমার সমুদ্র চোখে। স্বর্গের নির্বোধ হুরপরীদের, এখন হাঙর ধরার মৌসুম।

উলটানো পৃথিবীর ইঁদুর

যাপিত মৃত্যু ভেবে পেরিয়ে যাই ওরাংওটাং এর জীবন। চোখ বন্ধ করলেই হিসহিসিয়ে ওঠে বিষধর সাপ। জেব্রার সাদা ডোরায় দুর্গা প্রতিমা দেখে প্রতিমুহূর্তে এগুতে চাই, 'মা জয় মা' প্রলাপ করি, প্রলাপে ভাত জোটে না। দু'বেলা খেতে পারি ভেবে শান্ত হতে বলে দু'টো ইঁদুর। বড় হয়ে আমিও ভালো ইঁদুর হবো। এই শালার ভাগাড়ের জীবন, অথচ কতবার ভেবেছি- একবার ব্যাংকার হলেই ছুঁয়ে থাকবো তোমার চুল, সফেদ ওড়নায় ঢাকা পড়বে আমার হাত। সুদিন আসবে বলে জেব্রার গায়ে করেছি জোবেদা হিসাব। কিন্তু এখানে এখন উলটানো থালা, সব ব্যর্থ ইঁদুরদের বাসভুমি। এখন তোমার আঁচলে দুর্গামূর্তি দেখি না, চোখ বন্ধ করলেই হিসহিসিয়ে ওঠে বিষধর সাপ। পেটে প্রচন্ড খিদে, হাত দু'টো আজো বেকার। প্রলাপে ভাত জোটে না। ইঁদুর দু'টো আমায় ছেড়েছে তোমার আগেই। চৌদ্দই ডিসেম্বর দু'হাজার আঠারো   স্থানঃ ঢাকা থেকে ক্যাম্পাসগামী বাসের পেছনের সিট