Skip to main content

লাস্ট উইল এন্ড টেস্টামেন্ট

কমরেড, যদি আমি দিনটি দেখতে না পাই,
আমি বলতে চাচ্ছি, যদি স্বাধীনতার পূর্বেই আমি মারা যাই-
আমায় নিয়ে যাবেন,
এবং দাফন করবেন, আনাতোলিয়ার কোন গ্রাম্য গোরস্থানে।

শ্রমিক ওসমান, হাসান বে যাকে হত্যার নির্দেশ দিয়েছিল-
তাঁকে আমার এক পাশে চাই।
এবং অপর পাশে শহীদ আয়েশাকে,
যিনি শস্যক্ষেতে সন্তান জন্ম দিয়েছিলেন, এবং মারা গিয়েছিলেন চল্লিশ দিনের ভেতর।


আমাদের কবরের নিচে চলাফেরা করবে ট্রাক্টর এবং গানেরা-
ভোরের আলোয়, নতুন মানুষ, পোড়া পেট্রলের গন্ধ,
সাধারণের মাঠ, খালের পানি।
পুলিশের ভয় নেই!

অবশ্যই আমরা সে গান গুলো শুনতে পাবো না।
পচে যাওয়া কালো শাখার মত, শুয়ে থাকবো পৃথিবীর নিচে-
বধির, বোবা, অন্ধ এবং, মৃত।

কিন্তু আমি সে গান গুলো গেয়েছিলাম,
লিখিত হবার পূর্বেই।
আমি পোড়া পেট্রল শুঁকেছিলাম,
ট্রাক্টরের নকশা করার পূর্বেই।

আমার প্রতিবেশিরা,যখন তারা জীবিত ছিলেন,
শ্রমিক ওসমান এবং শহীদ আয়েশা,
এই মহান আকাঙ্ক্ষা অনুভব করেছিলেন।
সম্ভবত, না জেনেই!

কমরেড, যদি আমি সেদিনের পূর্বেই মারা যাই,
(এবং, সম্ভবত তাই হতে যাচ্ছে)
আমাকে দাফন করবেন আনাতোলিয়ার কোন গ্রাম্য গোরস্থানে।
এবং যদি সম্ভব হয়,মাথার ওপর একটা সমতল গাছ লাগাবেন।
আমার কোন সমাধিফলক কিংবা, অন্য কোন কিছুরই প্রয়োজন নেই।
২৭ এপ্রিল, ১৯৫৩
মস্কো, বারভিয়া হাসপাতাল।



লাস্ট উইল এন্ড টেস্টামেন্ট
-নাজীম হিকমাত
রূপান্তরঃ কায়েস মাহমুদ

Comments

Popular posts from this blog

একজন মডার্নিস্টের মাজার দেখা: “শরীফ উদ্দিনের গান : ওরা এবং ‘অরা’” হেমায়েত উল্লাহ ইমনের প্রবন্ধের পাঠপ্রতিক্রিয়া

প্রাককথন: মাজার ব্যাপারটাকে ইদানীং কালে  বাংলাদেশের প্রগ্রেসিভরা অনেকেই সেলিব্রেট করছেন সালাফিদের আগ্রাসনের এগেইন্সটে। আমার মডার্নিস্ট মন অবশ্য সালাফির জন্য যেমন মাজারের জন্যও তেমন। কারো প্রতিই এইখানে আগ্রহ নাই। কিন্তু এইখানে গুরুত্বপূর্ণ এই যে মাজার যখন ডমিন্যান্ট ছিলো তখন সে মানুষের উপর হামতাম করলেও, এখন সে ডমিন্যান্ট না; উলটো অন্যের ডোমিন্যান্সির স্বীকার। যেকারণে সেলিব্রেট না করলেও তার প্রতি আমার গ্রাজ নাই, বরং তার মানবাধিকার এর পক্ষেই অবস্থান নিবো। কিন্তু দেন এগেইন মাজারই আসল অন্যরা নকল এইসব বলে মাজারকে ওভারগ্লোরিফাই করার লাইনও আসলে আমার না। দিন শেষে দুইটাই প্রবলেমেটিক ইলেমেন্ট আমার রিডিং এ। মাজার তো কাল্টই, এই কাল্টের মহানতার তো কিছু নাই। দেশে আলাপ গুলো চিরকালই অস্তিত্ব রক্ষার নিরিখে হয় দুঃখজনক ভাবে। যেকারণে দেখা যায় পাড় নাস্তিকরা মাজারকে সহিহ ইসলাম বলে সেলিব্রিট করে সালাফিদের উৎপাতের বিপরীতে। যদিও মাজারের এখনকার ঢালাও নিরিহ রুপ তার ক্ষমতা হারানোর সাথে কানেক্টেড। ক্ষমতা থাকতে তার একাধিক রুপ ছিলো। কেউ ডোমিন্যান্ট কেউ এগ্রেসিভ। সেইখানেও আবার ওই সহিহ অসহিহ এর প্রসঙ্গ টানবেন সম্ভব...

সমুদ্রগামী রাজহাঁস, এবং তুমি

স্বর্গের নির্বোধ হুরপরীদের চাই নি বলে, আমি এক স্বেচ্ছা নিমজ্জিত রাজহাঁস- ডুবে যাই সমুদ্র জলে। একটি দ্বীপে, একটি উজ্জ্বল জ্বলজ্বলে দ্বীপে- তোমার বুক স্বর্গে ঢুকে পড়বার আগে- আমি মানুষ নই, এক বিজন শালিক তোমার বুকের তিলে ডুবে গিয়ে স্বর্গবাসী হই। ভূমধ্যসাগর থেকে গ্রিক রমণীর শখের ফিশবোলে যাতায়াতের মাঝে- একটা রঙিন মাছ তুলে দেখি উজ্জ্বল আকাশ। তোমার বুকের তারায় পুড়ে আমি স্বর্গবাসী হই। তবু আমি এক স্বেচ্ছাচারী রাজহাঁস, ডুবে যাই তোমার সমুদ্র চোখে। স্বর্গের নির্বোধ হুরপরীদের, এখন হাঙর ধরার মৌসুম।

উলটানো পৃথিবীর ইঁদুর

যাপিত মৃত্যু ভেবে পেরিয়ে যাই ওরাংওটাং এর জীবন। চোখ বন্ধ করলেই হিসহিসিয়ে ওঠে বিষধর সাপ। জেব্রার সাদা ডোরায় দুর্গা প্রতিমা দেখে প্রতিমুহূর্তে এগুতে চাই, 'মা জয় মা' প্রলাপ করি, প্রলাপে ভাত জোটে না। দু'বেলা খেতে পারি ভেবে শান্ত হতে বলে দু'টো ইঁদুর। বড় হয়ে আমিও ভালো ইঁদুর হবো। এই শালার ভাগাড়ের জীবন, অথচ কতবার ভেবেছি- একবার ব্যাংকার হলেই ছুঁয়ে থাকবো তোমার চুল, সফেদ ওড়নায় ঢাকা পড়বে আমার হাত। সুদিন আসবে বলে জেব্রার গায়ে করেছি জোবেদা হিসাব। কিন্তু এখানে এখন উলটানো থালা, সব ব্যর্থ ইঁদুরদের বাসভুমি। এখন তোমার আঁচলে দুর্গামূর্তি দেখি না, চোখ বন্ধ করলেই হিসহিসিয়ে ওঠে বিষধর সাপ। পেটে প্রচন্ড খিদে, হাত দু'টো আজো বেকার। প্রলাপে ভাত জোটে না। ইঁদুর দু'টো আমায় ছেড়েছে তোমার আগেই। চৌদ্দই ডিসেম্বর দু'হাজার আঠারো   স্থানঃ ঢাকা থেকে ক্যাম্পাসগামী বাসের পেছনের সিট