Skip to main content

Posts

মেঘনা: যে নদী এক ভাষার জন্ম দিছে

“I've known rivers: I've known rivers ancient as the world and older than the flow of human blood in human veins. My soul has grown deep like the rivers.” (Hughes, "The Negro Speaks of Rivers) একটা নদীমাতৃক দেশের উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষ হিসেবে ল্যাংস্টন হিউজের এই কবিতার সাথে আমি প্রায়ই নিজের একটা যোগসূত্র খুঁজে পাই। হিউজ তার জাতিগত পরিচয় বোঝাতে নদীর কথা টেনেছিলেন। ঠিক একইভাবে না হলেও, নিজের শেকড়ের কথা বলতে গেলে আমিও অনেকটা তার সুরেই বলতে পারি; কারণ আমার এলাকার সংস্কৃতি আসলে 'মেঘনা' নদীকে ঘিরেই আবর্তিত। এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স কোর্সে আমরা ‘ইকোসিস্টেম সার্ভিসেস’ বা প্রকৃতি থেকে পাওয়া সুযোগ-সুবিধা নিয়ে পড়ছিলাম। সেখানে যখন ‘সাংস্কৃতিক পরিষেবা’ (cultural services) অংশটা এল, তখন আমার সোশিওলিঙ্গুইস্টিকস কোর্সে শেখা একটা বিষয় মনে পড়ে গেল কীভাবে একটা নদী একটা জায়গার ভূগোল তো বটেই, এমনকি তার ভাষাকেও বদলে দিতে পারে। এই দুই কোর্সের শিক্ষা মিলিয়ে আমি একটা ব্যাপার বুঝতে পারলাম: কোনো জায়গার পরিবেশ বা ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্যের কারণে যখন কোনো ভাষা বা উপভাষা নতুন রূপ পায়, সেটা আসলে প্রকৃতির ...

একজন মডার্নিস্টের মাজার দেখা: “শরীফ উদ্দিনের গান : ওরা এবং ‘অরা’” হেমায়েত উল্লাহ ইমনের প্রবন্ধের পাঠপ্রতিক্রিয়া

প্রাককথন: মাজার ব্যাপারটাকে ইদানীং কালে  বাংলাদেশের প্রগ্রেসিভরা অনেকেই সেলিব্রেট করছেন সালাফিদের আগ্রাসনের এগেইন্সটে। আমার মডার্নিস্ট মন অবশ্য সালাফির জন্য যেমন মাজারের জন্যও তেমন। কারো প্রতিই এইখানে আগ্রহ নাই। কিন্তু এইখানে গুরুত্বপূর্ণ এই যে মাজার যখন ডমিন্যান্ট ছিলো তখন সে মানুষের উপর হামতাম করলেও, এখন সে ডমিন্যান্ট না; উলটো অন্যের ডোমিন্যান্সির স্বীকার। যেকারণে সেলিব্রেট না করলেও তার প্রতি আমার গ্রাজ নাই, বরং তার মানবাধিকার এর পক্ষেই অবস্থান নিবো। কিন্তু দেন এগেইন মাজারই আসল অন্যরা নকল এইসব বলে মাজারকে ওভারগ্লোরিফাই করার লাইনও আসলে আমার না। দিন শেষে দুইটাই প্রবলেমেটিক ইলেমেন্ট আমার রিডিং এ। মাজার তো কাল্টই, এই কাল্টের মহানতার তো কিছু নাই। দেশে আলাপ গুলো চিরকালই অস্তিত্ব রক্ষার নিরিখে হয় দুঃখজনক ভাবে। যেকারণে দেখা যায় পাড় নাস্তিকরা মাজারকে সহিহ ইসলাম বলে সেলিব্রিট করে সালাফিদের উৎপাতের বিপরীতে। যদিও মাজারের এখনকার ঢালাও নিরিহ রুপ তার ক্ষমতা হারানোর সাথে কানেক্টেড। ক্ষমতা থাকতে তার একাধিক রুপ ছিলো। কেউ ডোমিন্যান্ট কেউ এগ্রেসিভ। সেইখানেও আবার ওই সহিহ অসহিহ এর প্রসঙ্গ টানবেন সম্ভব...

গ্যাম্বলিং, গ্যাংস্টার আর আমেরিকান ড্রিমের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া: স্কোরসেজির 'গুডফেলাস'

স্করসেজির ভাষাতেই যদি শুরু করি, তাহলে বলতে হয়- যতদূর মনে করতে পারি, আমি সবসময়ই মার্টিন স্কোরসেজিরফ্যান ছিলাম। আমার কাছে তার একটা ফিল্ম দেখা মানে আমেরিকার প্রেসিডেন্টের ভাষণের চেয়েও বড় কিছু। কেন জানেন? কারণ রাষ্ট্রপতি যে গল্পটা বলেন না, স্কোরসেজি ঠিক সেই গল্পটাই বলেন। কোন গল্প? সেটা হলো 'আমেরিকান ড্রিম' বা সফল হওয়ার সেই রঙিন স্বপ্নটা কীভাবে মরে গেছে এবং খোদ আমেরিকা নিজেই একে কীভাবে খুন করেছে। স্কোরসেজি কেন এত দরকারি? কারণ তিনি কেবল একজন গুণী পরিচালক নন, বরং রাষ্ট্র যখন আমেরিকান ড্রিমের ব্যর্থতা নিয়ে চুপ থাকে, তখন তিনি সেই নীরবতা ভাঙেন। স্কোরসেজি কেবল একজন সেরাদের সেরা ফিল্মমেকারই নন, তাকে একজন 'লাশ কাটা ঘরের ডাক্তার' বা প্যাথলজিস্টও বলা যায়। যিনি সরকার আর পুঁজিবাদী ব্যবস্থার তৈরি করা 'জাতীয় রূপকথা'র ওপর খুব নিখুঁতভাবে ময়নাতদন্ত করছেন। আন্তোনিও গ্রামশি যেমন প্রিজন নোটবুকসে লিখেছিলেন, "পুরানো দুনিয়া মরছে, আর নতুন দুনিয়া জন্ম নিতে হিমশিম খাচ্ছে; এর মাঝে এখন হলো দানবদের সময়।" এই কথাটা আমেরিকার জন্য একদম সত্যি। কয়েক দশক ধরে রাষ্ট্র মানুষকে শিখিয়েছে যে কঠোর...

সমুদ্রগামী রাজহাঁস, এবং তুমি

স্বর্গের নির্বোধ হুরপরীদের চাই নি বলে, আমি এক স্বেচ্ছা নিমজ্জিত রাজহাঁস- ডুবে যাই সমুদ্র জলে। একটি দ্বীপে, একটি উজ্জ্বল জ্বলজ্বলে দ্বীপে- তোমার বুক স্বর্গে ঢুকে পড়বার আগে- আমি মানুষ নই, এক বিজন শালিক তোমার বুকের তিলে ডুবে গিয়ে স্বর্গবাসী হই। ভূমধ্যসাগর থেকে গ্রিক রমণীর শখের ফিশবোলে যাতায়াতের মাঝে- একটা রঙিন মাছ তুলে দেখি উজ্জ্বল আকাশ। তোমার বুকের তারায় পুড়ে আমি স্বর্গবাসী হই। তবু আমি এক স্বেচ্ছাচারী রাজহাঁস, ডুবে যাই তোমার সমুদ্র চোখে। স্বর্গের নির্বোধ হুরপরীদের, এখন হাঙর ধরার মৌসুম।

প্রাগৈতিহাসিক সাপ

চেচামেচি করে মদ এবং চুমুর মাঝে ইশ্বরকে ধরে রাখা মানুষদের ভিড়ে, আমি এক মহিমান্বিত পুরুষ পোড়ে ফেলি ওয়ার এন্ড পিস। যুদ্ধকে মনে হয় নারীর দুই স্তনের লড়াই, পুরুষের উদ্ধত জিভে জায়গা কেড়ে নিতে কি ভিষোণ পিপাসী, ভয়ংকর দানবের কাছে সপে দেয় কোচুরিপানার ফুল। আমি কবর থেকে তুলে নিয়েছি আমার আয়ু, কোচুরিপানা নয় আমার প্রিয় হাসনাহেনার তলায় বসে থাকা সাপ। আমি এক মহিমান্বিত পুরুষ, বিষদাঁতে চিনে নেই রক্তের কামড়। রাত দু’টার পর পুর্বপুরুষের কাম চিন্তার সঙ্গে আমার কোন তফাৎ নেই, তবুও আমি মহিমান্বিত একজন, কাম ছেড়ে ফিরে যাই কবিতার কাছে। পুরোনো প্রেমিকার ছবির দিকে তাকালে মনে হয়, কোচুরিপানা নয় আমার প্রিয় হাসনাহেনার তলায় বসে থাকা সাপ। রাত দু’টার পর পুর্বপুরুষের কাম চিন্তার সঙ্গে আমার কোন তফাৎ নেই, তবুও আমি মহিমান্বিত একজন, দাঁত ভেঙ্গে হেটে চলি গোরস্থানের রাস্তায়। ক্লান্তিতে থেমে যায় প্রাগৈতিহাসিক সাপ, গোল্ডলিপের প্যাকেট ছুড়ে আমি কেড়ে নেই ক্যাপাস্ট্যান। কবি আমি এবং মহত্বম একজন, বিষদাঁতে চিনে নেই রক্তের কামড়। ২৭ ডিসেম্বর, ২০১৯

অরাজনৈতিক জীবন

আমি একটা অরাজনৈতিক জীবন কাটাই এলাকার কুত্তা ঘেউ ঘেউ কইরা ডাকে আমি প্রচন্ড অরাজনৈতিক জীবন কাটাই এক দুপ্রে ফালগুনী পর্বার পর আমার আর কিছু করার নাই আমার আর কিছু করার নাই বইলা হাংরিদেরই পর্তে থাকি গুরুপাক সাহিত্য আমার প্যাটে সয় না আমি শুনেছি সেদিন নাকি তুমি তুমি তুমি মিলে তোমরা সদলবলে সভা করেছিলে সারে সা সারে সারে সা আমি একটা অরাজনৈতিক জীবন কাটাই টংগে ক্যাপাস্টেন নাই হাইটা কিরণের সাম্নে গিয়া বিড়ি ফুঁকি আকাশ ভ্রমনে গেলে ক্যাপাস্ট্যান পাবো না যখন আকাশ ভ্রমণে যাবো তখন কোবতে কর্তে পার্বো না বইলা আমি হাংরিদের পর্তে থাকি এলাকার কুত্তায় ডাকে ঘেউ ঘেউ ঘেউ ঘেউ আমার চৌকিদারের গায়ে দোতলা থেইকা পানি ঢাইলা দিতে মঞ্চায় কুত্তার আর শিয়ালের ল্যাঞ্জার পার্থক্য নিয়া কেউ কোবতে ল্যাখে নাই দোতলা থেইকা পানি ফালানো নিয়া আমার একটা কাহিনী আছে ছোট বেলার দিকে একবার এক লোকের মাথায় ঢাইলা দিছিলাম মগে কইরা বারান্দায় দাঁড়াইয়া সোজা নিচে এক লোক ছিলো রিকশায় সাইজা গুইজা যাইতেছিলো যেই লোক তার মাথায় ঢাইলা দিছিলাম কাট কাট কাট উপরের প্যারাটা কত ভাবে পড়া যায় গুরুপাক সাহিত্য আমার প্যাটে সয় না কিছু করার নাই বইল...

উলটানো পৃথিবীর ইঁদুর

যাপিত মৃত্যু ভেবে পেরিয়ে যাই ওরাংওটাং এর জীবন। চোখ বন্ধ করলেই হিসহিসিয়ে ওঠে বিষধর সাপ। জেব্রার সাদা ডোরায় দুর্গা প্রতিমা দেখে প্রতিমুহূর্তে এগুতে চাই, 'মা জয় মা' প্রলাপ করি, প্রলাপে ভাত জোটে না। দু'বেলা খেতে পারি ভেবে শান্ত হতে বলে দু'টো ইঁদুর। বড় হয়ে আমিও ভালো ইঁদুর হবো। এই শালার ভাগাড়ের জীবন, অথচ কতবার ভেবেছি- একবার ব্যাংকার হলেই ছুঁয়ে থাকবো তোমার চুল, সফেদ ওড়নায় ঢাকা পড়বে আমার হাত। সুদিন আসবে বলে জেব্রার গায়ে করেছি জোবেদা হিসাব। কিন্তু এখানে এখন উলটানো থালা, সব ব্যর্থ ইঁদুরদের বাসভুমি। এখন তোমার আঁচলে দুর্গামূর্তি দেখি না, চোখ বন্ধ করলেই হিসহিসিয়ে ওঠে বিষধর সাপ। পেটে প্রচন্ড খিদে, হাত দু'টো আজো বেকার। প্রলাপে ভাত জোটে না। ইঁদুর দু'টো আমায় ছেড়েছে তোমার আগেই। চৌদ্দই ডিসেম্বর দু'হাজার আঠারো   স্থানঃ ঢাকা থেকে ক্যাম্পাসগামী বাসের পেছনের সিট

বানমনুসংগম

সব কিছু কেমন অর্থহীন মনে হয়। এই যে সমাজ ,  সংস্কৃতি ,  টেবিলের কোনে পড়ে থাকা মার্ক্সের ক্যাপিটাল- সব কিছু। চারদিক প্রচন্ড অবসন্ন ,  ফ্রাস্ট্রেশন ফ্রাস্ট্রেশন। বহুদূরগামী ঝিঝি পোকার ডাকে কতগুলো ফ্রাস্ট্রেডেড সময় পেরিয়ে যাচ্ছে। মদ ,  মেয়েছেলে ,  আরো কিছুটা এস্থেটিক সাহিত্য ,  অশ্লীল রাজনৈতিক লদকালদকি , কিংবা ভুরি ভুরি গাল গপ্পে- আমার বমি পায়। কী অর্থহীন! কী প্রচন্ড অর্থহীন! আমি দেখেছি এই সবই মিথ্যে ,  প্রচন্ড মিথ্যে। যৌনতার কথা শুনে নাক সিটকানো অদ্ভুত মানুষেরা , সন্ধ্যাবেলা চুপি চুপি বেশ্যাকে ডেকে নেয় ঘরে। মানুষকে দেখে আমি নাক সিটকাতে পারি না। ভদ্রতার মুখোশের ভেতর দলা পাকিয়ে যায় ,  পেট মুচড়ে ওঠে। ঘরে ফিরে গড়গড় করে বমি করি। আমি দেখছি ,  বুঝছি- এই সমস্ত কিছু অর্থহীন। অর্থহীন সমস্ত কিছু ,  নাগরিক চাষাবাদের অনুর্বর জমি। ভাসানী হলের শান দেওয়া পুকুর ঘাট কিংবা মানুষের হিপোক্রেসির মধ্যে ইদানীং তফাৎ খুঁজতে চাই না। কেননা আমি জেনেছি দু ' টোই দূর হতে ভালো। সব কিছু কেমন অর্থহীন মনে হয়। চারদিক প্রচন্ড অবসন্ন। ঘেন্...

রাত্রিবাস

এই পরিচিত রাত্রির কুয়াসায় পা ফেলে চলে যাচ্ছে দু'টি সাদাটে সৌখিন বাতি। শহুরে রাস্তার দিকে তাকিয়ে থাকি, দূরে একটা কান্নার আওয়াজ দূরবর্তী    রাস্তা থেকে আসছে আমার নিকটস্থ ঘরে। আমি তাদের দিকে তাকিয়ে থাকি। সুউচ্চ দালানের ভেতর প্রেমিকাদের উন্নত বুক দেখে, আমি বলে দিতে পারি ক'টায় ছেড়ে গ্যাছে ঢাকার লঞ্চ। রাস্তা দিয়ে হাঁটলে এখন ছাতিমের গন্ধ পাবো। আমার বড্ড অসুখ করে, বিশ্রি শব্দ করে কাশতে কাশতে ডালে মেখে ভাত খাই। সুউচ্চ দালানের ভেতর প্রেমিকাদের উন্নত বুক দেখে, আমি বলে দিতে পারি ক'টায় ছেড়ে গ্যাছে ঢাকার লঞ্চ। আমি এক মুহুর্তকামী লম্পট, নিমিষেই বুঝে ফেলি কিশোরীর গায়ে জ্বর। হেমন্তের ঘ্রাণে আমার আগ্রহ নেই , ফুরিয়ে গ্যাছে শরতের শীতকাল।

পোস্ট মর্ডানিজম জানি, তবু শেফালীকে চাই

তুলা গাছটায় পড়ে যাচ্ছে একটা আস্ত সিগারেট। আগুন লাগছে ডালে।  আহ জ্বলে যাচ্চে, জ্বলে যাচ্চে।  ওঃ শেফালী! জ্বলে যাচ্ছে, জ্বলে যাচ্ছে।  ড্রেনের ওপাড়ে ঢেঁড়ে ইঁদূর গুলোর মতো কুটকুটিয়ে জ্বলে যাচ্ছে।  যা শালা, ঘেউ ঘেউ করে ডেকে যাচ্ছে কুকুরগুলা।  তোমায় কাছে পেলে ভুলে যাই কুকুর ভীতি, বিড়ালে আমার এলার্জি।  প্রতি লোমকূপের নদীতে স্নান করি, তুলে আনি নিখুঁত আলো।  ওঃ শেফালী, তোমারে শুঁষে নিতে নিতে চায় লম্পট, উচ্চবংশী মহাপুরুষ৷  আমি অচ্ছুত ম্লেচ্ছের ব্যাটা, তোমার ফরাসি শরীরের ঘ্রাণ পেলে ভাবি- সব কিছু জ্বালিয়ে দিবো , সব-  কবিতা এবং আর যা কিছু!   ঝুলে যাওয়া বৃদ্ধার স্তনের মতো, সম্পাদকের আমাকেও চায় না। দীর্ঘদিন বেকার, একটাও চাকরি নেইই।  তোমারে শুঁষে নিতে চায় লম্পট, উচ্চবংশী মহাপুরুষ৷  শেফালী, আমি মরে যাচ্ছি শেফালী, আমার সমস্ত আত্মা ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে,  আমি জীবন থেকে মৃত্যুর মাঝে উড়ে চলে যাবো, মৃত্যু থেকে বুকের ওপরে উড়ে চলে যাবো। তোমার উর্বশী যোণীর বেদি ঢেকে রাখো, এখন চোখ মেললে উড়ে যাবে তিন হাজার শালিক পাখি।  ওঃ শেফালী! আমায় অন্ধ করে ...

নীল মাছেদের চোখে

চিত্রকরঃ এম সি এসচার একটা আঙুরক্ষেত ধরে হেটে যাচ্ছে পেশাই খানা। দুই তিনটা তরতাজা ফল খুঁজে নেয় বেছে বেছে। তোমাকে সে দ্যাখেনি কোন দিন৷ জেনেছে বাজারের দাম ,  কতোটা পাকলে রস হবে ভালো৷ নিখুঁত স্তনের মতো কষবে চাহিদার মাপজোখ। আইল ধরে হেটে যাচ্ছে সুদর্শন বিড়াল। মাঠ পেরিয়ে গৃহস্থ ঘরে মিলবে খাবার। এটো ভাত অথবা কিছুটা দুধ৷ সাদা ফিনফিনে মাছের কাঁটা। পথিক কি জানে ,  দুঃখ পেলে হয় এমন দারুণ মদ ? প্রচন্ড বিষণ্ণ গত শীতে স্থানঃ মেগু ভাইর চায়ের দোকান  

আত্মহত্যার রাতে

ছবিঃ শফিকুল সাজীব                   রাত চারটা ষোল মিনিট। আবারও মরবো ভাবছি। কবিতাদের চিবিয়ে খাচ্ছে হায়নার পাল। মলয় বলেছেন  ' কবিতার জন্য আত্মহত্যা ছাড়া স্বাভাবিকতা নেই ' তবুও প্রতিবার মরতে গিয়ে ফিরে আসছি নিষ্প্রাণ মখমলে। আমি দেখতে পাই আমার চেনা জানা পৃথিবীটা কেবল বদলেই যাচ্ছে। তোমার মতো এই শহরের বুকেও ক্রমশ চেপে বসছে অবিশ্বাস। তবুও বার বার আশ্চর্য চোখে দেখেছি তোমার নাকের তিল ; দূর থেকে দূরে সরে যায় বিকেলের পাখির মতো। আমি সম্ভবত মারা যাচ্ছি। বিরান ফসলের মাঠের মতো লাথি মেরে যাবো সাহিত্য ,  সভ্যতা ,  জীবনবোধ। প্রস্রাব শেষে শিশ্ন ঝাকানোর মতো ,  ঝাকিতে ফেলবো জীবনের সকল হিসাব নিকাশ। বুড়ো গাছটার মতো আমারও থাকবে না কোন লেনদেন ,  দেনা পাওনা। কেবল জানবো আমি মারা গেছি ,  আমি মারা গেছি ,  আমি মারা গেছি।

সামুদ্রিক মাছেদের যাপন

Abstract Sea Artist: Irini Karpikioti মাছগুলো সাতরায় ,  পাখনা নাড়ে- সাতরায়। সমুদ্রের স্বচ্ছ জলকে তারা ভেবেছে সুন্দরতম বাসস্থান। তারা কি কথা বলে ?  জানি না। কেবল জানি ,  আজ বিকেলে তারা বিকোবে চড়া দামে৷ তারপর শহরের কোন অভিজাত খাবার টেবিলে ,  চার পদের মশলায় চুবিয়ে তাদের খাওয়া হবে। মাছেরা জানে না জীবনের মূল্য ,  কত টাকায় বিক্রি হয় বাজারে। কেবল জানে এই সমুদ্র তাদের সুন্দরতম বাসস্থান। জাল ফেলে রাখা জেলেটির কথা ভাবতে চাই , একটা প্রকান্ড দ্বীপ তার মনেও কী আছে ? সেখানে কয়টা শালিক ওড়ে ? জানি না ,  কেবল জানি মাছ গুলো শীঘ্রই বিকোবে বাজারে। অথচ মাছেরা ভেবেছিলো ,  সমুদ্র তাদের সুন্দরতম বাসস্থান।

অবয়ব

কায়েস মাহমুদ একটা অবয়ব বসে রয়েছে , দুপেয়ে জিন্স প্যান্ট ,  ঢোলা কালো শার্ট ;  অনেকটা মানুষের মতো দেখায়। ইদানীং প্রায়শই অস্তিত্ব সংকটে ভুগি , এই যে অবয়বটি তাকে অনেকেই আমার নাম ধরে ডাকছে। ধরে নিলাম , আমি জানি না অবয়বটির (যাকে অনেকেই আমার নামে ডাকছেন) পরিচয়। সে মানুষ না হয়ে বেবুন বা হায়নাও হতে পারে৷ যদিও স্রষ্টা হতে পারলে ,  আমি তাকে শালিক বানাতাম অথবা ,  একটা বানর৷ তখন হয়তোবা কেউ তাকে দেখে আপ্লুত হতো। অবয়বে চোখ রাখি , ক্রমশ অন্ধকার নেমে আসে। একটা হাসপাতালের গেটে বসে আছে , আট টাকার সিগারেট ফুঁকতে ফুঁকতে চার পাশে চোখ ফ্যালে৷ ক্রমশ অন্ধকার নেমে আসে ,  অবয়বটাকে মানুষ ভাবতে ইচ্ছে হয়। যদিও মানুষ হলে সে কবিতা পড়তো , " ভালোবাসা দিতে পারি ,  তোমরা কি গ্রহণে সক্ষম ?" ক্রমশ অন্ধকার নেমে আসে ,  অবয়বটাকে নিজ নামে ডাকতে ইচ্ছে হয়। একটা অবয়ব বসে রয়েছে , দুপেয়ে জিন্স প্যান্ট ,  ঢোলা কালো শার্ট ;  অনেকটা মানুষের মতো দেখায়। অবয়বে চোখ রাখি-(এখন মূলত অন্ধকার নেমেছে।) নিজ আকৃতি দেখি। দু ' তিন ইঞ্চি উচ্চতা কমে যাক , ...

নব্য সাম্রাজ্যবাদের যুগে, হে প্রিয়তমা

তোমার সাথে বহুদিন কথা হয় আমার। ইদানীং বিমর্ষ গ্রীষ্মের মতো, কী অদ্ভুত চোখে তাকিয়ে থাকো।  আমি ভুলে যাই বাকিসব৷ চুড়ান্তের কবিতাটা কেমন ছিলো, বাহিরে বৃষ্টি হচ্ছে কিনা, তুমি চশমা পরো কি পরো না, তোমার চুল হাঁটু ছুঁয়েছে নাকি কাঁধ, বাজারে পাসপোর্টের কেমন দাম! একটা প্রচন্ডতার গল্প শোনানো যাক তোমায়। ভাবছিলাম। তোমার সাথে প্রথম দ্যাখা, কোথায়?  একটা কবিতা কিংবা অসাধারণ ছবির কথা আমার মনে পড়ে। এই যে বাড়ি ফিরেছি, সারাদেশ বন্ধ হয়ে গেলে- আমি ক্রমাগত ইতিহাস পড়ি। "আলাপটা বিশাল৷ ভেংগে ভেংগে করা যাক। তৃতীয় ভূ-স্তর  যুগের শেষের দিকে গ্রীষ্ম মন্ডলের গর্ভে নিমজ্জিত-  এক বিশাল মহাদেশে উন্নত কিছুটা মনুষ্যাকৃতির এক বানর জাতির বাস ছিল। ডারউইনের বর্ননায় এদের কথা পাওয়া যায়।"  কথা বলে যাবার জন্য নিতান্তই বাজে চেষ্টা হতে পারে। নিওপ্রোটারোজোয়িক যুগ নিয়েও আলাপ করা যায়। তবুও বানরেরা ভালোবাসে, মানবিক হতে চায়।  তোমার আশ্চর্য চোখগুলো দেখি, কয়টা সমুদ্র সেখানে ডুবে গেছে? আমি জানি না। আমি শুধু জানি, আমাদের নব্য আদীম পূর্বপুরুষদের মতোই পৃথিবীতে ছড়িয়ে গেছি আমরা, মানুষেরা৷  ধ্বংস এবং নির্...

লুসাই পাহাড়

গাংচিল আহ শুভ্র গাংচিল , একটা বাঁদুর উলটো হয়ে ঝুলে আছে। চুপি চুপি পাতাদের দল ফিরে গেছে গাছে। সেখানে দু ' টো পাখি সম্ভবত গাইছে জাগব্যান্ড ব্লুজ , একটা হরিণ তন্ময় হয়ে শোনে। এক ,  দুই ,  তিন... দশটা জোনাকি পোকা , শহরের সমস্ত নিয়নের আলো নিয়ে এসেছে- ঝিঝি পোকার কনসার্টে। একবার উড়তে চাওয়ায় শালিককে নিয়েছে শিকারীর গুলি। নির্মল রাস্তা ধরে হাঁটছে কয়েকটা শামুক। গন্তব্য- গহীন বন। আষাঢ়ের বেগুনি আকাশ এবং এডিস মশার চিন্তায় ডুবে আছে একদল মানুষ৷ শিয়ালের অনবরত ডাকে ,  বেরিয়ে আসে একটা কুকুর। মানুষকে তারা ভালোবেসেছে অনাসক্ত নির্বিকার প্রকৃতির মতোই৷ অথচ মানুষেরা জানে না- আর খানিকটা গেলেই লুসাই পাহাড়!

কবিতা-৭

এখানে থেমে গ্যাছে একটা জ্যান্ত দোতলা বাস। প্রথম এবং শেষ স্টপেজের ভারসাম্য রেখে দাঁড়িয়ে আছে দু ' টি কিংবা আরো কিছু বছর৷ দেবদারুর ( প্রসঙ্গত ,  ক্রন্দসী দেবদারু) কয়েকটা চারা লাগিয়ে দিলে ভালো হয়। অবশ্য ,  জল কে দেবে ? তোমাকে একটা গান শোনাতে চাই। অবশ্যই নিজের নয়।আলো জ্বেলে গ্যাছে তিনটা বাতি। মূলত আমাদের সব কিছুই একা যার যার নিজস্ব স্নানঘরে। ফুল ,  পাখি ,  লতা ,  পাতা ,  কিংবা সামন্তীয় প্রেম। তুমি কী জানো কেন ভালো লাগে না এই আশ্চর্য শীতের রাত ?

বনসাই

কয়েকটা গাছ কেটে নিয়ে যায়। প্রথমে একটা ডাল কেটে নেয় ,  তারপর আরেকটা। তারপর আরেকটা৷ ধীরে ধীরে উপড়ে ফ্যালে শেকড় থেকে। গৃহকর্তা কেবল বনসাই ভালোবাসেন। আমার বন্ধু একটি সুন্দর তরতাজা গাছ। ডাল ধরে দোল খায় বাবুইর ছানা। তাকে খুঁজে পাচ্ছি না। গৃহকর্তা কেবল বনসাই ভালোবাসেন।   ক ' টা মানুষ মরলো কী বাঁচলো ,  শেয়ার বাজারের দর ,  চালের দাম ,  রিক্সা ভাড়া ,  শিক্ষাদাতা নামধারী প্রতিষ্ঠানগুলোর    নির্লজ্জ চাটুকারিতা ,  মানুষের অধিকার  ;  কিছুতেই কিছু যায় আসে না। গৃহকর্তা কেবল বনসাই ভালোবাসেন।

লিজা গোমেজ আপনাকে...

** লিজা গোমেজ, আপনাকে বলছি, মাঝরাত্রে গির্জার ঢং ঢং ঘন্টায়, কী করুণ সিম্ফনি তৈরি হয়- শুনেছেন কখনো? বৈষয়িকতায় বেথহোভেনের সমতুল্য না হলেও, আমার নিষঙ্গ গিটার সোলোর চেয়ে অনেক বেশি প্রাসঙ্গিক। ** লিজা গোমেজ, আমরা ক্রমশ আপনি হয়ে উঠছি, একটা পুরু আস্তরণ পড়ে চলছে দিনকে দিন- দেয়ালের পর দেয়াল। না না! ওখানে নয়! ওখানে তুমি ছিলে! ** সাংবিধানিক সতর্কীকরণ "ধুমপান মৃত্যু ঘটায়" মূলত জন্মই মৃত্যুর কারণ নয় কী? চলুন, আমাদের অনাগত সন্তানের মঙ্গল কামনায়, ধন্যবাদ জানাই- সকল অনিষিক্ত ডিম্বাণুকে! ** আমাদের প্রথম দেখা কোথায় হয়েছিলো? টিউশনে? গির্জায়? আশ্রমে কিংবা লাইব্রেরিতে? নাকি- গোরস্থানে? ** লিজা গোমেজ, অন্য সব প্রেমিকের মত- আমার কখনোই আপনার স্বামী হয়ে ওঠা হয় নি! বস্তুত, প্রেম এবং অপ্রেম একই সঙ্গে ছিলো আমাদের। অথবা, বলা যায়- অপ্রেম এবং প্রেম একই সঙ্গে আমাদের ছিলো। ** সম্ভবত কবিতাটা শুরু হয়েছিলো শীতে, প্রচণ্ড শীতে। ভর সন্ধ্যেয় আমরা গেয়েছিলাম, পিংক ফ্লয়েড- "উইশ ইউ ওয়্যার হিয়ার" আমরা দুঃখিত হয়েছিলাম, আপনার প্রিয় গায়ক জিম মরিসনের মৃত্যুতে। মহান শিল্প...

জন্মান্তর

প্রার্থনা কাঁপুনি এবং প্রার্থনা যতক্ষণ হাড় হতে মজ্জা শুকিয়ে আসে, পুরুষের জন্য প্রার্থনা- জন্ম সংরক্ষন। মৃত চলে যায় বেঁচে থাকা লাশ- একটা কবরের মাঝে, জমে ওঠা শ্বাস। তবুও একটি ভিন্ন ধরন ছিল শিশুসুলভ খেলা । তারা বাতাসের মত বিশ্ব সম্পর্কে চলে কিন্তু সময় প্রার্থনা ছিল জল্লাদ এর দড়ি কর্তিত ছিল, এবং ঈশ্বর আমাদের সহায় অথবা নির্মম খুনি। মৃত চলে যায় বেঁচে থাকা লাশ একটা কবরের মাঝে জমে ওঠা শ্বাস। বন্য জলোচ্ছাস, প্রতি জোয়ারে ধূসর ডানা। চারপেয়ে দড়ি, পেঁচিয়ে ওঠা সাপের ফনা। নিরিহ মাটির কবর, মৃত্যু,পিপড়া-সাহসী প্রলাপে মৃত চলে যায় বেঁচে থাকা লাশ একটা কবরের মাঝে জমে ওঠা শ্বাস। বছর চালু করি, নির্বাসিত নিঃসঙ্গতার ব্যথায়। মৃত চলে যায়-আসে বেঁচে থাকা লাশ, একটা কবরের ভিতর, জমে ওঠা শ্বাস।